সরকারের উন্নয়নের বিলবোর্ড এবার যাচ্ছে চট্টগ্রামে

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪২
ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামে সরকারের উন্নয়নের চিত্রসম্বলিত বিলবোর্ড লাগানো হবে। ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিলবোর্ডের পরিসংখ্যান নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। বিলবোর্ডের মালিক ও বিলবোর্ডের সাইজসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের বন ও পরিবেশমন্ত্রী স্থানীয় একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ঢাকার পর চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরে সরকারের উন্নয়নের তথ্য-চিত্র বিলবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। চট্টগ্রামে ছোট-বড় প্রায় ৮ হাজার বিলবোর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিপোল, ওভারহেড, বেলসাইন, ফেস্টুন সাইনও রয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠানসহ ১৪১ জনের বিলবোর্ড রয়েছে। এ সকল বিলবোর্ড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়ে, বন্দর কর্তৃপক্ষ, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ ও ব্যক্তিগত মার্কেট, বাসা-বাড়ি ও অফিস ভবনের পক্ষ থেকে অনুমতি নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে। শহরের যেকোন স্থানে কিংবা যেকোন প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে বিল বোর্ড স্থাপন করা হউক না কেন প্রত্যেক বিলবোর্ডের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক প্রদান করতে হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ৮ হাজার অনুমোদিত বিলবোর্ড থাকলেও এর বাইরে বিপুলসংখ্যক অননুমোদিত বিলবোর্ড রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এ সকল বিলবোর্ডের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোন প্রকার নিয়ম-নীতি এবং অনুমতি ছাড়া বিলবোর্ড স্থাপনের ফলে নগরী এক প্রকার বিলবোর্ডের নগরী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। যত্রতত্রভাবে বিলবোর্ড স্থাপনের ফলে নগরীর সৌন্দর্যহানি ঘটছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ অবৈধভাবে এবং পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠা বিলবোর্ডসমূহ দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাসমূহের সম্পাদকগণ যৌথভাবে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড উচ্ছেদে সম্পাদকীয় লিখেছেন। স্থানীয় পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় একটি নির্দিষ্ট কলামে অবৈধ ঝুঁকি ও সৌন্দর্যহানিকর বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলার জন্য উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যে সকল বৈধ ও অবৈধ বিলবোর্ড রয়েছে তার অধিকাংশই অনুমোদিত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চট্টগ্রামে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড উচ্ছেদের বিভিন্ন পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ঘোষণা করেছেন পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলা হবে। রমজান মাসের পূর্বে এবং রমজানে বেশ কয়েকটি অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হলেও উচ্ছেদ অভিযানের ধীরগতিতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে উম্মা প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সময় অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাজেহাল ও হামলার শিকার হয়েছেন। সঙ্ঘবদ্ধ বিলবোর্ড মালিকদের নিকট অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন অসহায় বলে অনেকের অভিমত। রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অধিকাংশ বিলবোর্ড মালিকদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাছাড়া রাতের বেলায় বিলবোর্ডসমূহ স্থাপন করা হলেও পুলিশ প্রশাসনও নির্বিকার থাকে। চট্টগ্রাম বিলবোর্ড এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, সরকার তার উন্নয়ন চিত্র বিলবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে। তবে আলোচনাসাপেক্ষে স্বল্প সময়ের জন্য হতে হবে। অন্যথায় তা তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতে ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে।