বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং

আইসিসির অভিযোগের তালিকায় ৯ জন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরে কমপক্ষে দুটি ম্যাচে ফিক্সিং নিয়ে তদন্তশেষে গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে নিজেদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু)। গতকাল এই রিপোর্ট নিয়েই রাজধানীর একটি হোটেলে বিসিবি ও আইসিসি যৌথ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছিল। সে সংবাদ সম্মেলনে রিপোর্টে উল্লেখিত কোনো অভিযুক্তর নাম বলা হয়নি। আইসিসির তরফ থেকে বলা হয়েছে, নয়জন ব্যক্তির বিপক্ষে অভিযোগ গঠন করেছেন তারা। এর মধ্যে ৭ জন সরাসরি ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত এবং বাকী দু’জন ম্যাচ পাতানোর কথা জেনেও নিশ্চুপ থাকার অপরাধে অপরাধী বলে আইসিসি জানিয়েছে। বিসিবির ও আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এই অভিযোগ এখন খতিয়ে দেখবেন বিসিবির গঠন করা একটি ট্রাইবুন্যাল। এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সংবাদ সম্মেলনে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত নয়জনের কাছেই তাদের বিপক্ষে অভিযোগসম্বলিত চিঠি পৌঁছে গেছে। ১৪ দিনের মধ্যে এই চিঠির জবাব দিতে হবে তাদের। কেউ চাইলে ট্রাইব্যুনালের কাছে অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিতে পারেন। আবার কেউ চাইলে আইনজীবী নিয়োগ করে বা নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন। সংবাদ সম্মেলনেই জানিয়ে দেয়া হয় যে, এই নয়জন ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবেন। তিনি যে দেশেরই খেলোয়াড় হোন না কেন; তাকে আপাতত ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে দেয়া হবে না। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়া বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ঢাকা গ্লাডিয়টর্সের দুটি ম্যাচ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে আকসু। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে মোহাম্মদ আশরাফুল, মাহবুবুল আলম রবিন, মোশাররফ হোসেন রুবেল, মোহাম্মদ রফিকদের নাম উঠে আসে সংবাদ মাধ্যমে। এর মধ্যে মোহাম্মদ আশরাফুল প্রকাশ্যে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। সর্বশেষ গত পরশু সোমবার রাতে বহুল প্রতীক্ষিত এই আকসু রিপোর্ট নিয়ে ঢাকায় আসে আইসিসির একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল। দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন। দলে আরও ছিলেন আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার সামি-উল হাসান, আকসু প্রধান ওয়াইপি সিং এবং আইসিসির আইন বিভাগের প্রধান ইয়াইন হিগিন্স। গতকাল সকালেই আইসিসির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিজের বিপক্ষে অভিযোগপত্র নিয়ে এসেছেন আশরাফুল। সেই সঙ্গে অন্তত আরও দু’জন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার হোটেল থেকে অভিযোগপত্র নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের কারো নাম বা দেশের পরিচয় সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দিতে চাইলেন না আইসিসি ও বিসিবি কর্মকর্তারা। তারা শুধু বললেন, বিসিবির দুর্নীতি বিরোধী আইনে বলা আছে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারো নাম প্রকাশ করা যাবে না। তাই তারা নিরুপায়। ডেভ রিচার্ডসন বললেন, ‘আমরা আজই বিস্তারিত অভিযোগের বর্ণনাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সবাই নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন, তাই আমরা কারো নাম প্রকাশ করতে পারি না।’ এই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিসিবির সহায়তার জন্য বার বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আইসিসির প্রধান নির্বাহী। আবার বিসিবির তরফ থেকে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেটের অভিভাবক হিসেবে আমরা এই খেলাটিকে সব ধরনের অন্যায় ও দুর্নীতি থেকে দূরে রাখতে সবসময় চেষ্টা করি। জনগণের যে অতি ক্ষুদ্র অংশ মূল্যবোধের সঙ্গে আপোষ করে, তাদের ঠেকাতে যা করণীয়, সব করবো আমরা।’