সাংবাদিক পেটানোর মামলায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে জামিন দেয়নি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আকতারুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে রনির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
প্রসঙ্গত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন বাতিলের পর গত ২৮ জুলাই মহানগর দায়রা জজ আদালতে রনির আইনজীবী কবির হোসাইন জামিনের আবেদন করেন। আদালত এ আবেদনের ওপর গতকাল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ধার্যকৃত দিনে আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে রনির পক্ষে এডভোকেট কবির হোসাইন এবং মামলার বাদী ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুস আলীর পক্ষে এডভোকেট আনিসুল হক শুনানি করেন।
শুনানিতে কবির হোসাইন বলেন, হাকিম আদালত এর আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সংসদ সদস্য রনির জামিন বাতিল করে। জামিন বাতিলের আগে তাকে নিয়ম অনুযায়ী নোটিসও দেয়া হয়নি। এছাড়া রনির বিরুদ্ধে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কর্মকর্তা ইউনুস আলীর দায়ের করা মামলা ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা সাধারণ ডায়রির তদন্ত একই পুলিশ করায় তদন্তের নিরপেক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই আইনজীবী।
জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, রনি একবার জামিন পেয়েও আইনে দেয়া সুযোগের অপব্যবহার করে বাদীকে হুমকি দিয়েছেন। অতএব তাকে এই মুহূর্তে জামিন দেয়া ঠিক হবে না। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
কবির হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করবেন।
গত ২০ জুলাই দুপুরে রাজধানীর তোপখানা সড়কের মেহেরবা প্লাজায় ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে ইনডিপেনডেন্ট টিভি চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মী ইমতিয়াজ মোমিন ও ভিডিও চিত্রগ্রাহক মহসীন মুকুলকে মারধর করেন এমপি রনি। ওই দিন সন্ধ্যায় ইনডিপেনডেন্ট টিভির সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুছ আলী হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গোলাম মাওলাসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। তবে ওই দুই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একই থানায় পাল্টা মামলা করেন রনি। ইতিমধ্যে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন।
