সময় রেখে সবকিছু

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৪৯
প্রতিদিনের জীবন প্রণালীতে চিহ্ন রেখে যায় গত হয়ে যাওয়া সময়। আগামীর জন্য যেপথ চলা তাতেও ভূমিকা রেখে চলে সময়। আর বর্তমানের এই যে বয়ান শুনছেন তাতেও কিন্তু গত হয়ে চলছে সময় নামে এক দূরন্ত পথিক। একে বাঁধা যায় না কোনো পিছু টানের মায়ায়। একে ধরা যায় না কোনো অমোঘ শক্তিতে। একে ফ্রেমবন্দি করা যায় না পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিকতম ক্যামেরাটি দিয়েও। কোনো গল্পে সময় কখনো থেমে থাকে না। তবুও সময়কে থামানোর চেষ্টা করতে হয়, সময়কে হাতের মুঠোয় ধরার স্বপ্ন দেখতে হয়, কখনো কখনো সময়কে ভেঙ্গে চূড়ে সুসময়ে রূপান্তরিত করতে হয়। এতসব সাফল্য গাঁথা এক বিন্দুতে ফেলতে পারলেই তবেই সময় হয়ে উঠে একান্ত আপন। জীবনের সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি মানুষকেই সময়কে আপন করার চেষ্টা করতে হয়। আর তরুণ বয়সে এই চেষ্টা করার মানসিকতা প্রয়োজন অনেক অনেক বেশি। একজন তরুণের জীবনের যতো প্রত্যাশা তা প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ বিন্দুতে পরিণত হতে পারে সময়ের সর্বোচ্চ ও যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে। নিজেকে যথার্থ সময়ে উপস্থাপন করার মধ্যদিয়েও সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। হাত ঘড়ির দিকে লক্ষ্য রেখে নয় বরং মনঘড়ির সঙ্গে হিসেব নিকেষ কষে জীবনে সময়কে বেঁধে নেয়া যায় অদৃশ্য দড়িতে। তারপর সাফল্য পেলে আপনি ইচ্ছে করলে এই দুরন্ত সময়কে রোদে শুকোতে পারেন কিংবা এই ভরা বর্ষায় পানিতে ভেজাতে পারেন। মন যদি চায় তবে দূর কোনো শীতের দেশে একে বরফের মাঝেও রেখে দিতে পারেন। এর জন্য সময় চাকাকে যে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হয় তার শর্টকার্ট প্রসেসের নাম সময় নিয়ন্ত্রণ বা টাইম ম্যানেজমেন্ট। নিচের কয়েকটি টিপস আপনাকে এই বিষয়ে অনেকটাই সাহায্য করতে পারে। ১. প্রথমেই ঠিক করে নিন আগামীদিন আপনার কাজের নির্দিষ্ট কোন বিষয়গুলো সম্পন্ন হওয়া সবচেয়ে জরুরি। সেই কাজটিকে পরবর্তী দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুন। এ ছাড়াও সঙ্গী অন্যান্য কাজকেও অবহেলা করলে চলবে না। ২. জীবনের নানা মুহূর্তে অলস সময় ঘুরে ফিরে আসে। দিনের প্রতিটি সময়ে এই অলস সময় আপনার কাছে এসে ধরা দিতে পারে। তাকে প্রশ্রয় দেওয়া আপনার কাজ নয়। অর্থাত্ অলস সময়ের দৈর্ঘ্যকে দীর্ঘায়িত করা আর তাকে নিজের আপন সঙ্গী ভেবে নেওয়া একই কথা। যারা এ বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেন তারাই মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন আজকের কাজ কালকে হলেও করা সম্ভব। কিন্তু কালকের কাজ যে কালকে করা সম্ভব নাও হতে পারে এটি অলস সময় অনেক সময়ই ভাবতে দেয় না। ৩. তারুণ্যের মূল অস্ত্র হওয়া উচিত গতি। নিজেকে বেগবান করে তুলতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হবে আপনাকেও। আরেকজন সময়কে ব্যবহার করতে পারলে আপনারও তা করতে পারার ক্ষমতা থাকা উচিত। অনেকেই নিজের অক্ষমতাকে ঢাকতে বারবার সময়কে দোষারোপ করেন। মনে রাখতে হবে সময় শিকারী কুকুরের মতো প্রভূ ভক্ত হয়। তাই তাকে শাসন করাই সাজে সবসময় আদর করা নয়। ৪. প্রথমেই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া উচিত। বয়সের যে মুহূর্তেই আপনি থাকেন না কেন, আপনি ভবিষ্যতে কী হতে চান কিংবা ভবিষ্যতে আপনার অবস্থান কোথায় হবে, তা আপনাকেই ভেবে নিতে হবে। নিজের নির্দিষ্ট প্ল্যান থাকলে ভালো, না থাকলে এখনই ঠিক করে নেওয়া উচিত। ৫. আপনার জীবনধারায় যেই সময়টাই আসুক না কেন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং নিজেকে জানার আর নিজের চেষ্টাকে সমর্থন দেয়াই আসল কাজ। আপনি যদি অংকে দূর্বল হন আর আপনার ধ্যানজ্ঞান হয়ে থাকে বড় বিজ্ঞানী হয়ে উঠার তবে জীবনের অংকই অনেকটা উল্টে যাবে। অন্যদিকে সাহিত্যে আপনার চরম দখল। অথচ মনের ভেতর কিংবা অভিভাবকের সিদ্ধান্তে আপনি নিজেকে খুঁজে নেন কমার্সের কোনো বিষয়ে তবে আপনার ভবিষ্যত সময়কে সহায়তা করবে না।