হাতির ভয়ে এবার চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলার পাহাড় সংলগ্ন এলাকার অনেক লোকজন ঈদে বাড়ি যায়নি। পাহাড় বনশূন্য হয়ে পড়ায় খাবার সংগ্রহের জন্য হাতি প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে ক্ষেতখামার ধ্বংসের পাশাপাশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে।
গত পাঁচ বছরে বাঁশখালি উপজেলায় হাতির আক্রমণে ৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে এবং বাঁশখালি উপজেলার পাহাড়-টিলা সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী অনেকে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই তারা হাতির ভয়ে তটস্থ থাকেন। কখন হাতির পাল নেমে আসবে, তার কোন ঠিক নেই। বিশেষ করে পুকুরিয়া, মজিনপুর, বিলছড়ি, জলদী, তাম্বল, পুঁইছড়িসহ পাহাড় সংলগ্ন কয়েকটি ইউনিয়নে হাতির তাণ্ডব বেশি।
বন বিভাগ ও প্রশাসনের উদাসীনতায় হাতির কারণে প্রাণহানি, ফসলের ক্ষতি দিনদিন বেড়েই চলেছে। কয়েকটি এলাকায় গত এক বছর ধরে কোনো ফসল চাষ করা হয়নি। অনেক সময় দিনের বেলায়ও হাতি মাঠে নেমে আসে। ধান, কলাগাছ, কাঁঠাল, নারকেলসহ গাছ-গুল্ম সব খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এক একটি পালে ৩০ থেকে ৪০টি হাতি থাকে। তারা এক সঙ্গে লোকালয়ে নেমে আসে খাবার সংগ্রহের জন্য। অনেকের মতে, দলছুট হাতিই বেশি বিপজ্জনক। চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক রেজাউল করিম জানান, পুকুরিয়া ইউনিয়নে তার গ্রামে সামপ্রতিক সময়ে হাতির উপদ্রব অত্যধিক বেড়ে গেছে। তিনি জানান, হাতির ভয়ে তিনি এবার ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যেতে সাহস পাননি। ঈদের পরদিন তিনি সকালে গিয়ে বিকালে আবার ফিরে এসেছেন। পরিবারের কাউকে সঙ্গে নেননি। পুকুরিয়া ইউনিয়নেই রমজানের পূর্বে এবং রমজানের সময় হাতির আক্রমণে দুই জনের প্রাণহানি ঘটে। রেজাউল জানান, তার জানা মতে আরো অনেকেই এবার গ্রামে ঈদ করতে যেতে পারেননি।
