‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’র হিটলিস্টে দুই মন্ত্রীসহ ১৪ বিশিষ্ট নাগরিক

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৫
জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের হিটলিস্টে রয়েছে বর্তমান সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ ১৪ বিশিষ্ট নাগরিক। এর মধ্যে ব্লগার ও স্থপতি আহমেদ রাজীব হায়দারকে গত ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয়েছে। রাজীবকে হত্যার পর হিটলিস্টে তার ছবির পাশে একে দেয়া হয় ক্রসচিহ্ন। গত মঙ্গলবার আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর মোহাম্মদপুরের বছিলার মাদ্রাসা-মসজিদ ও তার বাসায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে হিটলিস্টটি উদ্ধার করে। এছাড়া ডিবি বেশকিছু জিহাদী বই, অর্ধ-শতাধিক সিডি ও কয়েকটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে। মুফতি জসিম উদ্দিন ও তার সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামের নামে উগ্রপন্থি কার্যকলাপ এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সংগঠনটি মূলত এই ১৪ জনকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী কয়েকজনের সমন্বয়ে ছোট ছোট দল গঠন করে কিলিং মিশনও চালানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজীবকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করা হয় জসিম উদ্দিনের পরিকল্পনায়। আসিফ মহিউদ্দিনের উপর হামলা ও রাজীবকে হত্যায় মুফতি জসিমের বিরুদ্ধে পল্লবী ও উত্তরা থানায় মামলা হয়েছে। রাজীব হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে তারা রাজীব হত্যাকাণ্ডে পরিকল্পনাকারী হিসাবে মুফতি জসিম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়। ডিবি সূত্রে বলা হয়, হিটলিস্টে দুই মন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ব্লগারসহ বিশিষ্ট নাগরিক রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে হিটলিস্ট প্রকাশ না করার জন্য ডিবির কর্মকর্তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। ২০০৮ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের উত্থান। গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দুিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ প্রথম সারির ৬ নেতার মৃত্যুদণ্ড ২০০৭ সালে ৩০ মার্চ কার্যকর হয়। সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী জেল হাজতে রয়েছে। জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি হান্নানসহ প্রথম সারির নেতা ও বেশ কিছু কর্মী জেলহাজতে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর ছিল ওই দুটি সংগঠনের উপর। সে সুযোগে ভিন্ন নামে আবির্ভাব ঘটে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের। এ সংগঠনে জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের নেতাকর্মীরা রয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন। দেশব্যাপী তাদের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। গত সোমবার বরগুনার দক্ষিণ খাজুরতলা এলাকায় গোপন বৈঠককালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আনসারুল্লা বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিনসহ ৩১ জনকে গ্রেফতার করে। পরে ডিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জঙ্গি সংগঠনটির রাজধানীর বিভিন্ন কার্যক্রম অনুসন্ধানে মাঠে নামে। অনুসন্ধানে মোহাম্মদপুর বছিলায় বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিমের প্রধান ঘাটি গড়ে তোলাসহ এখান থেকে দেশব্যাপী জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যার পরিকল্পনাসহ অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সংগঠনের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তারা অভিহিত। ব্লগার রাজীব হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনা থেকে মুফতি জসিম ও তার সহযোগীদের ঢাকায় আনা হবে বলে তিনি জানান।