যতই চিত্কার করুন না কেন, ড. ইউনূস আর গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকার তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথমত, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের ২৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ ব্যাংক এতদিন যেভাবে চলে এসেছে সেভাবেই চলবে। শাখাগুলো যেভাবে কাজ করছে সেভাবেই কাজ করবে। তৃতীয় সিদ্ধান্তটি হচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের বিধিমালাসমূহ প্রণয়ন করা হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন চেয়ারম্যান খোঁজা হচ্ছে। যতদিন না পাওয়া যায় ততদিন বর্তমান চেয়ারম্যান খোন্দকার মোজাম্মেল হকই দায়িত্ব পালন করবেন।
গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের মেজরিটি শেয়ারের দরকার হয় না। ইউনূস সাহেব আর গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে পারবেন না, এটা তাকে স্বীকার করতে হবে, স্বীকারটা করতে পারছেন না বলেই এত সমস্যা।
গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশ মেনে নিলে গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস হয়ে যাবে—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, কমিশন সুপারিশ করেছে এবং আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। আমি এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে একটি নীতিগত বিবৃতি দিয়েছি। এ ধরনের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কিন্তু ইউনূস সাহেব অনবরত এ আন্দোলনটা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা কী উদ্দেশ্যে? কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্ত নেবো কি নেবো না, এ প্রশ্নের জবাব এখন দেয়া যাবে না। কিছু সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, বাকিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্তও নেয়া হবে।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, এখন গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো রেগুলেটরি বডি নেই। এটাকে একটি আইনী কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র অধীনে এটাকে পরিচালিত হতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কবে দেয়া হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী সপ্তাহেই এ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
