জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের শেষ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্ত সহিংসতায় এক শিবির নেতা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অর্ধশত। গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক। হাইকোর্টে দলের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর মঙ্গল ও বুধবার দেশব্যাপী টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয় জামায়াত।
গতকাল সকালে যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় ছাত্র-শিবিরের ঢাকা মহানগর ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি খলিলুর রহমান মল্লিক (২২) নিহত হন। এ সময় বেসরকারি টেলিভিশন বাংলা-ভিশনের ক্যামেরাপারসন জহিরুল ইসলাম জনিসহ ১৫জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। গ্রেফতার করা হয় দুই কর্মীকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পিকেটাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর সময় খলিলুর রহমান চলন্ত গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিহত হয়েছেন। অপরদিকে শিবির বলেছে, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ পিছন থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই খলিলুর রহমান নিহত হন। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাথিয়া উপজেলার মল্লিকপাড়া গ্রামে।
ডিএমপি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ীর এ কে দনিয়া হাইস্কুলের কাছে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ককটেল ও ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জানমাল রক্ষায় পুলিশ রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে পিকেটাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে থাকে। এ সময় খলিলুর রহমান চলন্ত গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে পুলিশ মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন হরতালের সময় আহত বাংলাভিশনের সংবাদকর্মী।
দুদিনের হরতালে গতকাল সকাল থেকে রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি স্থানে পিকেটিংয়ে তত্পর দেখা যায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের। খিলাগাঁও, মগবাজার, মধুবাগ, মানিকনগর, মতিঝিল, ঢাকা কলেজ এলাকা, আদাবর, মিরপুর-১৩ ও পুরান ঢাকার ধূপখোলাসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল ও পিকেটিং করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।
হরতালের শুরুতে রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও বাড়তে থাকে। হরতালের কারণে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল ছিল স্বাভাবিক।
মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় সকাল সাতটার দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা বাস ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় সেখান থেকে একজনকে আটক করে পুলিশ।
হরতালে সংবাদ সংগ্রহে সকালে মিরপুর-১৩ নম্বরে বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কম, দৈনিক কালের কণ্ঠ, এটিএন বাংলা, আরটিভি ও রেডিও টুডে’র সাংবাদিকদের বাধা দেয় পুলিশ। মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত আয়ুর্বেদিক কলেজের সামনে শিবির কর্মীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ও রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
আগুনের ছবি তুলতে গেলে মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশ রেডিও টুডে’র রেডিও জকি অমিত রায়হানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হরতালের বিরুদ্ধে গণজাগরণ
মঞ্চের মিছিল
জামায়াত আহূত হরতালের বিরুদ্ধে গণজাগরণ মঞ্চ গতকালও শাহবাগ থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি রূপসী বাংলা হোটেল হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যায়। সেখান থেকে আবার শাহবাগে এসে মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
