ভোলায় বিদ্যুত্ উত্পাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা বেহাল

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৮
দ্বীপ জেলা ভোলার বেহাল বিদ্যুত্ ব্যবস্থার কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে ভোলার ২০ লাখ মানুষ । উত্পাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা প্রায়ই ভেঙ্গে পড়ে অন্ধকার নেমে আসে ভোলায়। বিদ্যুতের অভাবে ইলিশসহ শত কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়। সম্প্রতি ঈদের পরের দিন বিদ্যুত্ ফল্টে ভোলার মানুষের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যায় । কোন সরকারই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলার বিদ্যুত্ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমানে এখানে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যাপক লোডশেডিং, গ্রিড ফল্ট ও ৩৪ মেগাওয়াট ইঞ্জিন ফল্টের কারণে প্রায়ই অন্ধকারে থাকে ভোলা। কল-কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হয়। সরেজমিন পরিদর্শন ও বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, ভোলার ওজোপাডিকোর ২০০-২৫০ কি.মি. এলটি লাইনের অবস্থা খুবই নাজুক। ২০ বছর যাবত্ এ লাইনে বিদ্যুত্ বিতরণ করার কারণে লাইনের টেম্পার কমে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুত্ চাহিদা বেড়ে গেলেও নতুন কোন বিতরণ ট্রান্সফরমার বিতরণ করা হয়নি এবং প্রায় বিকল ট্রান্সফরমারও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। এ কারণেই বার বার ফল্ট ও লোডশেডিং হয়। এদিকে ভোলার দুটি ৩৩ কেভি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন থাকলেও সময় মত কাজে আসে না । বিশেষজ্ঞরা জানান, ভোলা পটুয়াখালী সঞ্চালন লাইনের আড়াই কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল ও বরিশাল-ভোলা সঞ্চালন লাইনের সাড়ে তিন কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল ড্যামেজ হওয়ার কারণে বার বার পুনঃস্থাপন করেও স্থায়ী ফল লাভ করা যাবে না। পানির নিচে থাকায় ফল্টের সম্ভাবনা শতকরা ৮০ ভাগ। এতে বিপুল অর্থ অপচয় ও জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। এ ব্যাপারে ভোলা ওজোপাডিকোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মাজেদ জানান, ঐ দুটি সঞ্চালন লাইনের ছয় কিলোমিটার নদীর উপর ওভার হেড লাইন স্থাপন করাই মূল সমাধান। ৩৮.৫ রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র ভোলার চাহিদা মেটানোর জন্য স্থাপন করা হয় ৩৮.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, ঐ রেন্টাল কোম্পানি এক ইউনিটের একটি পুরাতন ইঞ্জিন এনে চালু করায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ বার বিকল হয়েছে । এছাড়া ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার সীমা থাকলেও রেন্টাল কর্তৃপক্ষ কখনো কখনো ৩২ মেগাওয়াট পর্যন্ত উত্পাদন করে। এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। গত শনিবার ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়লে সমগ্র জেলায় অন্ধকার নেমে আসে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, ইঞ্জিনটির ফল্ট চিহ্নিত করতে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দলকে কনফার্ম করলেও ভিসা সমস্যায় তাদের আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ১৯ তারিখের আগে তাদের আসার সম্ভাবনা নেই। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে ঃ তোফায়েল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি ঢাকা থেকে ভোলার সাংবাদিকদের সাথে এক টেলিকনফারেন্সে ভোলার বিদ্যুত সমস্যা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। গতকাল বুধবার ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ টেলিকনফারেন্সে জাতীয়, স্থানীয় ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের পর থেকে চার দিন কার গাফিলতিতে ভোলার মানুষ বিদ্যুত থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্ভোগ পোহালো অবশ্যই তার তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। অপরদিকে ৩৪.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্রটি মেরামতের জন্য তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল শুক্রবারের মধ্যে আসবেন বলে তিনি জানান। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ বিদ্যুত্ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবদানের জন্য তোফায়েল আহমদকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মমিন টুলু, প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, বিটিভি প্রতিনিধি আবু তাদের, ইত্তেফাক প্রতিনিধি অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিন বাবুল, এটিএন বাংলা প্রতিনিধি আহাত চৌধুরী তুহিন, যুগান্তর প্রতিনিধি অমিতাব রায় অপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।