শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে সারাদেশের মানুষ বেদনায় স্তব্ধ হয়ে পড়বে, তবে কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে না—বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন আভাস দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ সালের দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক চ্যাপ্টারের বাংলাদেশ নোটে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম বিজয় দিবস পালনের পাঁচ দিন পর ১৯৭২ সালের ২১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ গোয়েন্দা প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অবনতির দিকসমূহ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে নিয়ন্ত্রণ করে। মুজিব বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিধারায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যুতে সারাদেশের মানুষ বেদনায় স্তব্ধ হয়ে পড়বে, যদিও সেই মৃত্যুর ঘটনা দেশে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না। তার রাজনৈতিক দল থেকেই তার উত্তরসূরি উঠে আসবে। আর ক্ষমতায় আসীন থাকতে সেই উত্তরসূরি সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে বাধ্য হবে।
উক্ত প্রতিবেদনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ কখনোই ভারতের অঙ্গরাজ্য বা করদ রাজ্য হবে না। কিন্তু ভারতের স্বার্থ অনুধাবন করেই বাংলাদেশ তাদের নীতি নির্ধারণ করবে। এই স্বার্থরক্ষার বাইরে বাংলাদেশ স্বাধীন সত্তা নিয়েই বিরাজ করবে। বাঙালিরা তাদের মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতা নতুন করে পেয়েছে, এটাকে তারা আর হারাতে চায় না।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আরেক অংশে উল্লেখ করা হয়, ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে বিরাজ করবে। যদিও বাংলাদেশ ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সৃষ্টি হয়নি এবং খুব বড় ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সহযোগিতা না দিয়ে নয়াদিল্লি দেখাতে চায় যে, বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য বা ক্রীড়নক নয়, কখনো হবেও না।
