মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ কার্যালয় পরিদর্শন করেই বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। সেখানে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খানের গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগের কথা জানান। সেই সঙ্গে আদিলের মুক্তি চান রাষ্ট্রদূত মজীনা। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে ড্যান মজীনা সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অধিকার সম্পাদক আদিলের গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়েছি। তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় মুক্তি দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
ড্যান মজীনা আরো বলেন, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবকে ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনে প্রকাশিত দুইটি বড় আকৃতির বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে অবহিত করেছি। একটি ৩২ জন সিনেটর, কংগ্রেসম্যানের বিবৃতি। যাতে তারা গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অপর বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ৪০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতি দুটির ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে আমার ও সরকারের অবস্থান হচ্ছে সবচেয়ে গরিব ও দুঃস্থ মানুষ বিশেষ করে মহিলাদের উন্নয়নের এজেন্ট গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যকারিতা অব্যাহত রাখতে হবে। এটা খুবই জরুরি। ব্যাংকটির অনন্য সাধারণ পরিচালনা কাঠামোও অব্যাহত রাখতে হবে।
রাষ্ট্রদূত মজীনা আগামী সপ্তাহে শ্রম পরিস্থিতি দেখতে মার্কিন কংগ্রেসম্যান জর্জ মিলারের সফর সম্পর্কেও সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত এর আগে দুপুরে গুলশানে অধিকার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আদিলুর রহমান খানকে ১০ আগস্ট রাতে গ্রেফতার সম্পর্কে জানতে চান। অধিকারের কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি অবহিত হন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছাড়াও ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ইউরোপিয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা এ সময় অধিকার কার্যালয়ে যান।
