দেখা হয় নাই

ঘাঘড়া লস্কর খান বাড়ি মসজিদ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৪
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো শেরপুরের ঘাঘড়া লস্কর খান বাড়ি মসজিদ-এর কথা। এই বাংলায় মোগল শাসনের অবসান হয়েছে তাও কমবেশি আড়াই শ বছর হতে চলল। তবে মোগল শাসনের সেই স্মৃতি মানুষের মন থেকে প্রায় মুছে গেলেও মোগলদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে আজও এই দেশের বহু প্রান্তে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মোগল স্থাপনা। বিশেষ করে মোগল আমলের বহু মসজিদের দেখা মেলে বাংলাদেশের বহু জেলাতেই। আর মোগল শাসনামলে তৈরি এমনই একটি মসজিদ হলো শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ঘাগড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত ঘাঘড়া লস্কর খান বাড়ি মসজিদ। শেরপুর জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে এবং মসজিদের সাথে থাকা নিদর্শন অনুযায়ী এর নির্মাণকাল হিজরি ১২২৮ বা ইংরেজি ১৮০৮ সন বলেই ধরে নেওয়া হয়। এটি মোগল সম্রাটের আমলে বক্সার বিদ্রোহীদের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর বিদ্রোহের সময় নির্মিত হয়ে থাকতে পারে বলেও অনেকে মত প্রকাশ করেন। বাইরে থেকে দেখতে মসজিদটি বেশ দৃষ্টিনন্দন এবং সে সময়ের আর দশটি মসজিদের মতো এই মসজিদটিতেও মোগল স্থাপত্যের ছাপ বেশ স্পষ্ট। যদিও আকৃতিগত দিক থেকে এটি সে অর্থে অন্য আর দশটি মসজিদের মতো অতটা বড় নয়। এ কারণে মূল মসজিদ ভবনটির ভেতরে প্রতি কাতারে গড়ে ১০ জন করে মাত্র ৩০ জন এবং মসজিদের সামনের বারান্দায় আরও অর্ধশতাধিক মুসল্লির স্থান সংকুলান হতো। অন্যদিকে মসজিদের গঠন প্রণালি মূলত খিলান ও গম্বুজ নির্ভর। এর ভিতরে রয়েছে দুটো সুদৃঢ় খিলান। এক গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ উভয়দিকেই সমান। এর ভেতরের অংশ ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট। মসজিদের মধ্যখানে বড় গম্বুজের চারপাশে ঘিরে ছোট-বড় দশটি মিনারও তৈরি করা হয়েছিল। এরমধ্যে চারকোনায় চারটি এবং তিন পাশে দুটি করে আরও ছয়টি মিনার তৈরি করা হয়। ছোট আকৃতির বলে এই মসজিদে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র দরজাই তৈরি করা হয়। আর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা মেলে মেহরাব ও দেয়ালে অঙ্কিত নানা কারুকাজের ফুলদানি ও ফুলের। সবমিলিয়ে মসজিদের মূল ভবন ও ভবনের সামনের মোট ১৭ শতক জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা এই মসজিদটি আজও বহু মানুষকেই মনে করিয়ে দেয় প্রায় সোয়া দুই শ বছর আগের ফেলে আসা সময়ের স্মৃতিকে।