বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার আগামী মাসে উদ্বোধনের আশা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৬
চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। গার্ডার ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনার পর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই উদ্বোধনের লক্ষ্যে দিনে রাতে সমানে চলছে নির্মাণ কাজ। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নির্মাণ কাজে ত্রুটির কারণে গত নভেম্বর মাসে গার্ডার ধসে পড়ে প্রায় ১৩ জন লোক নিহত ও বহু লোকের আহতের ঘটনায় বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। এই ঘটনায় প্রকল্প কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সকলেই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছে। ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসের ঘটনার পর এর অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সেনাবাহিনীর সাথে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চুক্তিবদ্ধ হন। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘সেনাবাহিনী বলেছেন আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সেই লক্ষ্যে দ্রুত কাজ চলছে। মহাজোট সরকারের আমলেই ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’ সিডিএ নিজস্ব অর্থায়নে ২০১০ সালে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এখন ফ্লাইওভারের উপরের অংশের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফ্লাইওভারের দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত চলছে। এদিকে ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে শাহ আমানত সংযোগ সড়কে যানজট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। বহদ্দারহাট মোড় থেকে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়কের সমপ্রসারণ কাজ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় গত কয়েক মাস যাবত্ এই কাজ বন্ধ রয়েছে। সমপ্রসারণ কাজে ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অর্থের যোগান নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় সংযোগ সড়কের সমপ্রসারণ কাজ কুয়েত ফান্ডের অর্থায়নে করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। গত ৩০ জুন সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের সমপ্রসারণ কাজ বন্ধ করে দেয়। সড়ক বিভাগ জানায়, ফ্লাইওভার চালু হলে সংযোগ সড়কে দুর্ভোগ বাড়বে। যানবাহনের চাপ পড়বে রাহাত্তারপুল থেকে সেতু পর্যন্ত। এ সড়ক দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে দিনে রাতে অসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। তাই যানজট নিয়ে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া সংযোগ সড়কের অধিগ্রহণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই উচ্চ আদালতে মামলা দায়ে করায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। এতে সমপ্রসারণ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।