মুখ থুবড়ে পড়ছে মধুপুর গড়ে তুলা চাষ প্রকল্প

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৩
দেশে তুলা উত্পাদনের ঘাটতি মোকাবেলায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধুপুর গড়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। শীত মৌসুমের পাশাপাশি বোর্ড গ্রীষ্মকালেও তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক এ প্রকল্প গ্রহণ করে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড, ময়মনসিংহ জোন জানায়, দেশে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টরে বড় জোর এক লাখ বেল তুলা উত্পাদন হয়। দেশে তুলার চাহিদা প্রায় ৪০ লাখ বেল। অবশিষ্ট তুলা বিদেশ থেকে আমাদানী করা হয়। এমতাবস্থায় বোর্ড একই জমিতে বছরে দুবার তুলা চাষের উদ্যোগ নেয়। এজন্য ‘গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ নামে একটি কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৮টি জোনের প্রতিটিতে ৫টি করে অংশীদারিত্ব প্লট স্থাপন করে। যশোর জেলার জগদীশপুর গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবন করা গ্রীষ্মকালীন উফসী জাত সিবি-১২ এর পরীক্ষামূলক আবাদ চাষী পর্যায়ে শুরু হয়। এজাতের উত্পাদন বিঘাতে ১০/১২ মণ বলে উল্লেখ করা হয়। ময়মনসিংহ জোনের মধুপুর ইউনিটের আওতায় দুই বিঘা করে একাধিক প্লট স্থাপন করা হয়। ধরাটি গ্রামের চাষী আবুল হোসেন জানান, শীতকালীন তুলা চাষের তুলনায় এ ধরনের প্লটে বাড়তি সেচ, সার ও পরিচর্যা দেয়া হয়। কিন্তু উত্পাদনের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। মার্চ মাসেই গাছে ব্যাপক হারে পচন ধরে। কিছু গাছ টিকে থাকলেও বোল ধরে নামে মাত্র। বৃষ্টিতে বোল ঝরে যায়। নাম অপ্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক পদস্ত কর্মকর্তা জানান, দেশে গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষের আবহাওয়া না থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিলাসী প্রকল্প নিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় করেছেন মাত্র।