রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা সমাধিসৌধের পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করা হয়। বিউগলে বেজে ওঠে করুন সুর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনী। এসময় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সুরা ফাতেহা পাঠ শেষে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সেখানে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
শোক দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর কবরের বেদীতে ফুল দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে আসেন। প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে ছিলেন। এসময় তিন বাহিনীর প্রধান, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল¬্যাহ, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহম্মেদ, আমির হোসেন আমু, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, চিফ হুইফ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সমাধিসৌধে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সকাল সাড়ে ১১টায় সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে জেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে মিলাদ মাহফিলের মোনাজাতে অংশ নেন। পরে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করার পর সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিন ব্যাপী চলতে থাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পালা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকার্ত মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় এসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার জন্য দোয়া করেন। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর মাজার।
প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, কোটালীপাড়া পৌরসভা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২১৫টি সমজিদে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালিবাড়িতে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।
শোক দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ৭০ কি.মি. সড়কে কালো কাপড় দিয়ে অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়। টুঙ্গিপাড়ার সর্বত্র উড়ছিল কালো পতাকা। বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ এলাকায়ও শোকের চিহ্ন কালো পতাকা টানানো হয়।
