বছরে পিঁয়াজের ঘাটতি ৬-৭ লাখ টন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৪
দেশে প্রতি বছর পিঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। এরমধ্যে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টন উত্পাদন হয়। ঘাটতি ৬ থেকে ৭ লাখ টনের পুরোটাই ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয়। তবে মিয়ানমার থেকে আমদানির পরিমাণ খুবই কম। প্রায় পুরোটাই ভারত নির্ভর। যে কারণে ভারতের বাজারের উপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান ও চিন থেকে পিঁয়াজ আমদানি করা যেতে পারে। এছাড়া মানসম্মত বীজের যোগান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পিঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে আমদানি না করেও এই ঘাটতি অনেকটাই দূর করা যাবে। অভিযোগ রয়েছে, পিঁয়াজের সমন্বিত উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখনও সক্রিয় নয়। ঘাটতি মেটাতে দ্রুত বিএআরআই, বিএডিসি ও ডিএই এর মাধ্যমে উত্পাদন বৃদ্ধির সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। জানা গেছে, মানসম্মত বীজের অভাবে উত্পাদন কম হওয়া ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণের দাম আকাশছোঁয়া হলেও সেই অনুপাতে দাম না পাওয়ায় কৃষকরা পিঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নানা কৃষি উপকরণের মধ্যে শুধু মানসম্মত পিঁয়াজের বীজের কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুল হক ঝন্টু গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, কৃষকদের মানসম্মত বীজের যোগান, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পিঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে দেশে পিঁয়াজের ঘাটতি অনেকটাই দূর করা যাবে। তিনি বলেন, ক্ষেত থেকে পিঁয়াজ তোলার পর উপযুক্ত যত্নের অভাবে ১৫ শতাংশ পিঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে ৬ টন পিঁয়াজ উত্পাদন হয়। অথচ ভারতে একই পরিমাণ জমিতে বড় আকারের পিঁয়াজ ২৫ টন ও পাকিস্তানে ১৪ টন উত্পাদন হয়। কৃষকদের ভালো বীজ সরবরাহ করে এবং তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরাও পিঁয়াজের উত্পাদন বাড়াতে পারি।