বার বার হিন্দু সমপ্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় স্বরূপকাঠীতে আতংক বিরাজ করছে। উপজেলার জলাবাড়ী, আটঘর-কুড়িয়ানাসহ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এসব হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ উপজেলা সদরে গত ২৭ জুলাই উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম মুহিদের হাতে হামলার শিকার হন বঙ্গবন্ধু জোটের নেতা আশিস বড়াল। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার ভাই জলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলামসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে তিন দিন পূর্বে স্বরূপকাঠী থানায় আশিস বড়াল বাদি হয়ে মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী আশিস বড়াল জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার উপর আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টিতে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে স্বরূপকাঠী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরবর্তীতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশিস জানান, চিকিত্সা শেষে চিকিত্সকের সনদ নিয়ে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। হামলাকারীরা শাসক দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় নানা ভাবে বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করছে। মামলার খবরে তারা ক্ষুব্ধ হওয়ায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিশাল অংশ এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনিও বাড়ি ছাড়া। এর আগে আটঘর - কুড়িয়ানার ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র সিকদারের উপর হামলা চালায় মুহিদ ও তার দলবল। এরকম অহরহ হামলা হলেও অধিকাংশ ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে যায় বলে আশিস অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় হিন্দু সমপ্রদায়ের কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলার ৪০ ভাগ ভোটার হিন্দু সমপ্রদায়ের। সর্বশেষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে একটি মহল হিন্দুদের উপরে নাখোশ। তাই বার বার তাদের উপর আঘাত আসছে। তারা জানান, স্বাধীনতার পর জলাবাড়ী, আটঘর-কুড়িয়ানা, সমুদয়কাঠী, দইহাড়ি, গুয়ারেখা, সারেংকাঠীসহ উপজেলার অপর ইউনিয়নগুলোতে হিন্দু সমপ্রদায়ের বসবাস অনেক বেশি ছিলো। বার বার সংসদ নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহল বিশেষের হামলায় হিন্দু সমপ্রদায় এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এখনো উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর পূর্বতীরের জলাবাড়ী, আটঘর-কুড়িয়ানা ও সমুদয়কাঠীতে এবং নদীর পশ্চিম তীরের দইহাড়ি, গুয়ারেখা ও সারেংকাঠীতে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সমপ্রদায় বসবাস করছে। নদীর পূর্বতীরের ইউনিয়ন তিনটির হিন্দু সমপ্রদায়ের উপর বার বার হামলার অভিযোগ উঠে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এছাড়া জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সেখানকার হিন্দু সমপ্রদায়ের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন বর্তমান চেয়ারম্যান তৌহিদ। এসব কারণেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের বার বার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন।
অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধের সুযোগে হিন্দু সমপ্রদায়কে আরো কোনঠাসা করতে তাদের একটি গ্রুপে ঠেলে দিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার লোকজন নানা চক্রান্ত করছেন। এ কারণেই আশিস বড়ালসহ হিন্দু সমপ্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা হামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও হিন্দু সমপ্রদায়কে এলাকা ছাড়া করা ও বার বার হামলার প্রতিবাদে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠন বরিশাল নগরীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
