গল্প নয় সত্যি

যুদ্ধের ভয়ে ৪০ বছর!

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫১
যুদ্ধ যে মানুষকে কী ভয়ংকর পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে সেই সত্যটিকেই যেন নতুন করে আবারও সবাইকে জানিয়ে দিলেন ভিয়েতনামের অধিবাসী হো ভান থান ও তার সন্তান হো ভান লাং। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেই ১৯৭১ সালের পর কোনো এক সময়ে হো ভান থান তার সন্তান হো ভান লাংকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন কোয়াং নাই প্রদেশের টে ট্রা শহরের গহীন অরণ্যে। তারপর একে একে প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আর জনারণ্যে ফেরেননি থান ও তার সন্তান লাং। এর মধ্যে বিশ্ব-রাজনীতিতে বহু পট পরিবর্তন হয়েছে। থেমে গেছে ভিয়েতনামী যুদ্ধের তাণ্ডবও। কিন্তু সেই সত্তরের দশকে এক মাইন বিস্ফোরণে স্ত্রী এবং দুই সন্তান হারানো থান আর কখনোই যুদ্ধের অবস্থা জানতে ফেরেননি লোকালয়ে। বরং মানুষের যুদ্ধের চাইতে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকাটাকেই সহজ ভেবেছিলেন থান। বনের ফলমূল আর নিজের মতো করে ফসল ফলিয়ে দিব্যি ভালোও ছিলেন তিনি ও তার সন্তান। তবে সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন গহীন অরণ্যে থান ও লাংকে দেখতে পেয়ে তা জানায় স্থানীয় বন প্রশাসনকে। আর তাদেরই সহায়তাতেই সম্প্রতি লোকালয়ে ফিরিয়ে আনা হয় ৮২ বছর বয়সী থান ও ৪১ বছর বয়সী লাংকে। এ সময় দীর্ঘদিনের অপুষ্টিজনিত কারণে থান এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে তিনি ভিয়েতনামের স্থানীয় কর ভাষায় কিছু কথা বলতে পারলেও তার সন্তান লাং দু’একটি শব্দ ছাড়া আর কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে তাদের উদ্ধারকারী বন প্রশাসন। এদিকে যুদ্ধের করাল গ্রাস থেকে বেঁচে যাওয়া হো ভান থানের আরেক সন্তান হো ভান ট্রি জানান, প্রায় দুই দশক আগে তিনিই প্রথম জানতে পারেন যে তার বাবা ও এক ভাই গভীর অরণ্যে এখনও বেঁচে আছেন। সে সময় তিনি বেশ কষ্ট করে তাদের কাছে পৌঁছে যুদ্ধ শেষ হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন। এমনকি তাদেরকে লোকালয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা যেন অজানা এক শঙ্কা আর অবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিল বাবা হো ভান থানের মনে। তাই তিনি কিছুতেই লোকালয়ে ফিরতে চাননি। বাবার এই অবস্থা দেখে তার অপর সন্তান হো ভান ট্রি’ও সেটি অন্য কাউকে জানাননি। তবে সম্প্রতি বনের ভেতর জীবিকার সন্ধানে যাওয়া অন্য কয়েকজনের চোখে পড়ার পর তাদেরকে উদ্ধারে তত্পর হয় বন প্রশাসন। এদিকে ভান ও লাংকে চিকিত্সার দায়িত্বে থাকার চিকিত্সকরা বলেছেন, বনে ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকলেও তাদের শরীরে যে দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি দেখা দিয়েছে তা সারিয়ে তুলতে তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।