শ্রম মেধা আর একাগ্রতার কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য। রাত গড়িয়ে ভোর হতেই যাকে জীবন জীবিকার তাগিদে পান্তাভাত খেয়ে রিক্সাভ্যান নিয়ে বেড়িয়ে পড়তে হতো অথবা কারো জমিতে দিন মজুরের কাজ পাওয়ার আশায় প্রত্যুষে অন্যের বাড়িতে ধর্না দিতে হতো এখন তিনি নিজেই ৪০/৪৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন। সরফরাজ আলী নামের অনুকরণ যোগ্য এই শ্রমনায়ক নিজের শ্রম আর মেধাকে কাজে লাগিয়ে এখন ভ্যানচালক থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন আদর্শ নার্সারি ব্যবসায়ী। নিজ এলাকার গন্ডি পেরিয়ে তার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে। দেশের বড় বড় নার্সারি ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাকে এক নামে চেনেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার কালিকাডোবা গ্রামের বাসিন্দা সরফরাজ আলী আকন্দ ১৯৯৬ সালে আরডি-৯ প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ঐ প্রকল্প থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মাত্র ১০ শতক জমির ওপর গড়ে তোলেন তার নার্সারিটি, নাম দেন ‘নয়ন-সাথী নার্সারি’। এতে তিনি ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা উত্পাদন ও বিপণন শুরু করেন। আর এভাবেই ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে সরফরাজের। বর্তমানে তার ২৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা এই নার্সারিতে রয়েছে আম,জাম, কাঁঠাল, জামরুল, আমড়া, লিচু, আঙ্গুর, কতবেলসহ ৩০/৩৫ ধরনের ফল এবং মসল্লা ও ঔষধি বৃক্ষের চারা। আর চারার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য তার রয়েছে মাদার বাগান যেখানে বিভিন্ন ধরনের আম, লিচু গাছে কলম কেটে চারা উত্পাদন করা হয়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা ব্যবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে তার নার্সারিতে চারা কিনতে আসেন। সরফরাজ আলীকে অনুসরণ করে এই এলাকায় আরো প্রায় ৮/৯টি নার্সারি গড়ে উঠেছে।
নার্সারিতে চারা কিনতে আসা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আলমগীর হোসেন বলেন, এ মৌসুমে তিনি ৪ বার চারা কিনতে এসেছেন। সরফরাজের নয়ন সাথী নার্সারির আমের চারার মান অত্যন্ত ভালো। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চারা ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান এ মৌসুমে নয়ন সাথী থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার চারা ক্রয় করেছেন। এই নার্সারির আমের চারার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
সরফরাজ আলী বলেন, এখন তিনি প্রতি বছর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেন। তার এই উন্নয়নের পিছনে কৃষি বিভাগের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, নয়ন সাথী নার্সারি এলাকাবাসীর কাছে মডেল। সরফরাজ আলীর মতো আরো যদি কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নেয় তবে কৃষি বিভাগ তাকে সহায়তা করবে।
