পোড়ো বাড়ির দেয়ালে জৌলুস না থাকলেও প্রবেশপথের সুউচ্চ ফলক শক্তি পূজারি মুক্তাগাছার জমিদার বংশের শৌর্য-বীর্যের ইতিহাস ধরে রেখেছে। মুক্তাগাছার ধ্বংসপ্রায় জমিদার বাড়ির শানশওকত আজো দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত এই বিশাল বাড়িটি ১৮৮৯ সালে প্রথমবার এবং ১৮৯৭ সালে দ্বিতীয়বারে ভূমিকম্পে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে পুনঃনির্মিত বাড়িটিতে রয়েছে ভূমিকম্পসহিষ্ণু বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে ভিতরের বাড়িতে রাতে ঘুমাবার ঘরটি ইট পাথরের গড়া নয়।
বিশালাকার আকৃতির কংক্রিটের ফাউন্ডেশনের উপর একাধিক লোহার রেলবারের খুঁটিতে দাঁড়ানো ঘরটির পাটাতন কাঠের এবং টিনের ৩তলা বিশিষ্ট ঘড়টির সিঁড়ি কাঠের নির্মিত। তারের জাল মধ্যে রেখে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে মাত্র দুই ইঞ্চি পুরু বেড়া ঘেরা চারদিকে সেঁটে আছে। ঘরের নীচতলা ফাঁকা : এদিক দিয়েই যাতায়াতের পথ । শোনা যায়, জাপান থেকে কারিগর এনে ঘরটি এমনভাবে নির্মিত হয় যাতে প্রবল ভূমিকম্পেও এটি ভেঙ্গে না পড়ে। চারদিক প্রাসাদোত্তম দালান-কোঠায় ঘেরা । বিশাল সামন্ত স্থাপনার মাঝখানে এই ঘরটি বেমানান মনে হয় না । কথিত আছে বাংলা ১৩০৪ সালের কোন এক বিকেলে প্রবল ভূমিকম্পে বাড়িটি গুড়িয়ে যায় এবং রাতভর মৃদৃ কম্পন অনুভূত হয়।
জমিদার পরিবারের সবাই ভিত হয়ে প্রজাদের খরের ঘরে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটায়। এরপর এই বাড়িটির পুনঃনির্মাণে ভূমিকম্প থেকে নিরাপদ মাত্রায় যোগ হয়। অধুনা বিশেষজ্ঞ মহলের ভূমিকম্প সতর্কীকরণ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হালের নির্মীয়মাণ বাড়িগুলো তৈরিতে ভূমিকম্পসহিষ্ণু প্রযুক্তির যোগ হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছার এই ভূমিকম্প নিরাপদ বাড়িটি সংরক্ষণ করা উচিত বলে পর্যটকদের দাবি। তাদের মতে, মহাদুর্যোগে নিরাপদ দিক নির্দেশনা দিতে পারে এর নির্মাণ শৈলি ।
