দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা নদীর ডানতীর রক্ষা বাধ ও নবনির্মিত স্পার হুমকির মুখে পড়েছে। স্পারটি যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে। বাঁধ ও স্পার রক্ষার্থে জরুরিভিত্তিতে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও নামমাত্র কাজ করে পাউবো’র কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের ওই টাকা ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর ডাউয়াবাড়ী গ্রামে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিস্তানদীর ডানতীরের বাঁধ রক্ষার্থে একটি স্পার নির্মাণ করা হয়। তিস্তার শাখা নয়নজলি নদীর উপর প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪০ মিটার এ স্পার নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্পার নির্মাণের পর পরই স্পারের পিছনে বাঁধের একটি অংশ নদীতে ভেঙ্গে যায়। ওই বাঁধ রক্ষার্থে জরুরিভাবে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে নেয়া হয়। ফলে ওই বাঁধের পিছনের অংশে আবারও বিশাল ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ নিঃস্ব হবেন বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন। আর এ কারণে স্থানীয় লোকজন গত ৩ দিন ধরে নিজ উদ্যোগে বাঁধটি রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে পাউবো’র তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তবারক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। সহকারী প্রকৌশলী মুইনুদ্দিন মন্ডলের নির্দেশ তিনি পালন করছেন মাত্র। পাউবো’র সহকারী প্রকৌশলী মুইনুদ্দিন মন্ডল নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশ ছাড়া এসব বিষয়ে কোন কথা ও তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি। পাউবো’র ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ওই কাজ তদারকি করার জন্য পাউবো’র দু’জন প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারাই বলতে পারবেন কেমন কাজ হচ্ছে।
