এবার ঈদের ছুটিতে তেমন একটা জমে উঠেনি পর্যটন নগরী সিলেট। হরতালের কারণে অনেক ভ্রমণপিপাসু আসেননি এবার। যারা এসেছিলেন তারা ভ্রমণ পরিকল্পনা কাটছাঁট করে আবার ফিরে গেছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। যার কারণে অনেকটাই ফাঁকা ছিল পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জামায়াতের ডাকা দুদিনের হরতালের কারণে সিলেটের বাইরে থেকে যারা এসেছিলেন তারা হরতাল শুরুর আগেই সিলেট ছেড়ে চলে যান। অল্পকিছু পর্যটক রয়ে যান সিলেটে। অবশ্য এদের অধিকাংশেরই বাড়ি সিলেট ও সিলেটের আশপাশের জেলায়। হরতালের কারণে সবচে বেশি বিরক্ত হয়েছেন প্রবাসীরা। তারা বলেছেন, ঈদে দেশে এসে হরতাল দেখতে ভাল লাগে না। সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় স্থান জাফলং ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ঈদের আগে থেকে শুরু করে হরতালের আগ পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় ছিল। তবে সিলেটের বাইরে থেকে আসা অনেক পর্যটক হরতালের আগেই চলে গেছেন গন্তব্যে। ভারতের মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষা প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি প্রকৃতি কন্যা জাফলংকে এক নজর দেখতে এসেছিলেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশু। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে এবারো ঈদের ছুটিতে কিছু পর্যটক আসে। ঈদের ছুটিতে সব ধর্ম-বর্ণের পর্যটকের আগমনে এক স্বর্গীয় স্থানে পরিণত হয়ে উঠে জলপ্রপাত ও আশপাশের এলাকা।
জাফলং মহাসড়কের মামার দোকানের সামনে সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন পর্যটকরা। একই সমস্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায়। অভ্যন্তরীণ ৮ কিলোমিটার বেহাল রাস্তার জন্য পিকনিক স্পটে পৌঁছতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয় ভ্রমণ পিপাসুদের। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২শ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় বিচরণ করে অনেকে। বিপজ্জনক স্থানে লাল ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়ার পরও পর্যটকরা বাধা মানছে না।
জলজ উদ্ভিদের সমারোহে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম রাতারগুল ফরেস্ট প্রকৃতির এক অপূর্ব নিদর্শন। ছোট নৌকা দিয়ে ভেতরে ঢুকেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। রাতারগুল বনে বর্ষাকালে অথৈ পানি থাকে চার মাস। তারপর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়ে-চলা পথ। আর তখন পানির আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বিলগুলোতে। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীরা। এ পর্যটন কেন্দ্রটি এখনো তেমন একটা পরিচিতি পায়নি।
