ঝালকাঠিতে ছিনতাই হওয়া ২শ ভরি স্বর্ণ চার বছরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কোন মালামাল উদ্ধার ছাড়াই মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে সিআইডি। চার্জশিটে এ ঘটনার কথিত মূল নায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে জামাই কালামকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ঝালকাঠি সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবুল খায়ের অত্যন্ত গোপনে চার্জশিটটি দাখিল করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ছিনতাই করা স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা না করেই চার্জশিট দেয়ায় মামলার বাদী মুসলিম গিনি হাউসের মালিক মো. শাহজাহান হাওলাদার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার একাধিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তে অগ্রগতি ও মালামাল উদ্ধারের জন্য বার বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন স্বর্ণ উদ্ধার না করেই মামলার চার্জশিট দেয়া হলো। তবে তিনি চার্জশিটের ব্যাপারে নারাজি আবেদন করবেন কি না সে ব্যাপারে কিছু বলেননি।
চার্জশিটে মুসলিম গিনি হাউজের ম্যানেজার আজিজ হাওলাদারকে ১নং আসামি করে জামাই কালামের সহযোগী মাহাবুব রিয়াজ ওরফে গোরস্তান বাবুকে ২নং আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন।
২০০৯ সালে ২৩ জুন ঝালকাঠির ডাক্তার পট্টির মুসলিম গিনি হাউজের মালিকের ছেলে হাসান ইমাম দোকানের ম্যানেজার আ. আজিজকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শাহজাহান হাওলাদার বাদী হয়ে ম্যানেজারকে আসামি করে ঝালকাঠি থানায় মামলা করেন। পুলিশ ম্যানেজারকে গ্রেফতার করলে সে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেয়। সে, জামাই কালাম ও বাবু মিলে এ ছিনতাই করে বলে স্বীকার করে। কিন্তু সে সময় কালাম পুলিশের তত্কালীন একাধিক তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মামলার তদন্ত বারবার বাধাগ্রস্ত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের কাছ থেকে প্রথমে ডিবি এরপর সিআইডিকে মামলার তদন্তভার দিয়ে ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন তত্কালীন আইজি।
