সৃজনকে পরিপূর্ণ বিকশিত করার পদ্ধতি হলো সৃজনশীল

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ১৮:০৮
প্রসঙ্গ :সৃজনশীলে বিএড কবির হোসেন সুজন , প্রভাষক, নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সৃজনকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করার একটা পদ্ধতি হলো সৃজনশীল। আর এই সৃজনশীল মেধাকে বিকশিত করার জন্য কিছু ধারাবাহিক বা প্রস্তুতিমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এই প্রস্তুতিমূলক পদ্ধতির ধারাবাহিক শিক্ষা শিক্ষার্থী শিক্ষকের নিকট থেকে পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সময় ব্যবস্থাপনা, আনন্দদায়ক পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন, সহজ ও আকর্ষণীয় শিখন পদ্ধতি,শিক্ষকের শিক্ষণ দক্ষতার উত্কর্ষতা, শ্রেণিকক্ষে পুরো সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল, সবল ও দুর্বল শিক্ষার্থী মিলিয়ে গ্রুপ সৃষ্টিকরণ, গ্রুপভিত্তিক দলনেতার মাধ্যমে বাড়ীর কাজ আদায়, শিক্ষকের পাঠ পরিকল্পনা তৈরী, পাঠ পরিকল্পনার আলোকে পাঠদান, শিখন ফল বাহির করা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবোধ সম্পর্কে জ্ঞান, SBA অর্থাত্ স্কুলভিত্তিক মূল্যায়নের কৌশল, জেন্ডার স্টাডি. এ্যাসাইনম্যান তৈরী, বিভিন্ন উপকরণের সহজতর ব্যবহার, সৃজনশীলের কাঠামো বিন্যাস সর্বোপরি শ্রেণি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি একজন শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিকট ফলপ্রসূ হিসাবে প্রকাশ পায়। সময় ব্যবস্থাপনা মানে ছাত্র-ছাত্রীদের সময়ের কাজ সময়ে করতে শেখা, আনন্দদায়ক পাঠদান পদ্ধতি মানে ছাত্র ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য উপকরণের সমন্বয়ে বাস্তবভিত্তিক উপমার মাধ্যমে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের একে অপরের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব বৃদ্ধি, পাঠ পরিকল্পনা মানে প্রতি ক্লাসে কতটুকু কাজ সম্পাদন করবে পূর্ব থেকে তার ধারণা, কোন কিছু শিখার ফলে তার থেকে ফল বের করা, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা মানে পাঠ উপযোগী শ্রেণি পরিবেশ তৈরী করা। এইসব কাজ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হলেও শিক্ষকের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের নিকট প্রবাহিত হয়। আর শ্রেণি ব্যবস্থাপনা,সময় ব্যবস্থাপনা ,শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের শিখন পদ্ধতি, শিখন ফল যাচাই, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম,পাঠ পরিকল্পনা তৈরী ও বাস্তবায়ন, গ্রুপভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতি পরিচালনা ও আদায়, লিঙ্গ বৈষম্য, এ্যাসাইনম্যান তৈরী, কর্মমূখী গবেষণা, বি,এড. শ্রেণির পাঠ্য বিষয়ের অংশ। যা বি.এড প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন শিক্ষক পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে পারে এবং প্রয়োগের সহজ, নির্ভুল ও উন্নত কৌশল জানতে পারে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি অধ্যায় পাঠদানরত অবস্থায় পাঠদানকে আকর্ষণীয় ,স্মৃতি নির্ভর করার জন্য শিক্ষকের শিক্ষণ দক্ষতা থাকতে হবে আর এই শিক্ষণ দক্ষতার আলোকে কতটুকু স্থায়ীভাবে শিক্ষার্থী আয়ত্ত করতে পেরেছে তা শিক্ষার্থীর শিখন এবং একটি অধ্যায় শেষে তারা কি কি শিখছে তার শিখনফল অর্থাত্ একটি অধ্যায় পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যদি আমরা জ্ঞানমূলক প্রশ্ন বের করতে পারি সেটা হলো শিখনফল এবং এই জ্ঞানমূলক প্রশ্নের বিভিন্ন উপাদানের আলোকে শিক্ষার্থী নিজ নিজ উদ্দীপক তৈরী করতে পারবে এবং শিক্ষকের শিক্ষণ দক্ষতার আলোকে তাদের শিখন থেকে তারা উত্তর বের করতে পারবে এবং সময়ের সাথে তালমিলিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে একটি উত্তর বের করে প্রয়োগ করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা একে অন্যের সাথে পরামর্শ করে গ্রুপভিত্তিক কাজ করতে পারবে অর্থাত্ একে অন্যের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। মোটকথা আমরা বলতে পারি যে, সময় ব্যবস্থাপনা, পারস্পারিক যোগাযোগ স্থাপন, গ্রুপ ভিত্তিক কার্য আদায়, শিক্ষণ দক্ষতা, শিক্ষণ পদ্ধতি, শিখনফল, শ্রেণি বিন্যাস বি.এড শ্রেণির এই সব দক্ষতা প্রয়োগ করে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে একজন শিক্ষার্থীর পাঠকে যেমন আনন্দদায়ক করা যায় তেমনি তাদের স্মৃতিতেও দীর্ঘদিন উক্ত পাঠদান ধরে রাখার পথ খুঁজে পাওয়া যায় আর তার আলোকে তারা নিজেদের মত করে কিছু উত্তর তৈরী করার উদ্দীপনা পাবে বলে ধারণা করা যায়। তাই আমরা বি.এড শিক্ষার প্রতিটি পদ্ধতি প্রয়োগ করে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো উন্নত আরো যুগোপযোগী ও সৃষ্টিশীল করতে পারি। যার ফলে শিক্ষকের দক্ষতা বৃদ্ধি সাথে সাথে সাথে শিক্ষকের কাজের উত্কর্ষতা বৃদ্ধি পায় ফলশ্রুতিতে শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধি পায় যার বহি:প্রকাশ ঘটে শিক্ষার্থীদের আচরণে। তাই সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষকের শিক্ষণ কৌশল বৃদ্ধিতে বি.এড দক্ষতার আবশ্যকতা রয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।