মেয়েদের মাথা থেকে ঝরে পড়া চুল এখন দামি বাণিজ্যিক পণ্য। বার্ষিক প্রায় ৭২ কোটি টাকার চুলের বাণিজ্য হয়। আগে এ চুল ফেলে দেয়া হত। এখন এ চুল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে চুলের ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বর্তমানে মেয়েরা চুল আছড়ানোর সময় ঝরে পড়া চুল যত্ন করে গুটি জমা করে রাখে। হকাররা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এ চুল প্রতি কেজি আড়াই হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে কিনে নিয়ে যায়। ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট প্রভৃতি স্থানে চুল কেনাবেচা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া অন্য জেলাতেও চুল কেনাবেচা হচ্ছে। দেশের বড় চুল ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান জানান, চুল ব্যবসা মূলত চীনারা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
এ ছাড়াও মিয়ানমার, জাপান ও কোরিয়ার ব্যবসায়ীরা চুল কিনে রপ্তানি করে থাকে। সরাসরি বিমানে বেশির ভাগ চুল রপ্তানি হয়। টেকনাফ বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে চুল রপ্তানি হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে চুলের ভাল বাজার আছে। তিনি জানান, চীনে গিয়ে দেখে এসেছেন এ চুল দিয়ে বিভিন্ন ফ্যাশনের পরচুলা তৈরি করে চীনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। এ পরচুলা নানান রংয়ের তৈরি করে তারা। ইউরোপের দেশগুলো ও আমেরিকাতে রপ্তানি হয়। কোরিয়া ও মিয়ানমার থেকেও পরচুলা রপ্তানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে মাসে ১০ হাজার কেজি চুল কেনাবেচা হয়। অর্থাত্ বছরে এক লাখ ২০ হাজার কেজি চুল কেনাবেচা হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
দু’ রকম চুল রপ্তানি হয়ে থাকে। কেনার পর প্রোসেস ছাড়া গুটি করা চুল রপ্তানি করা হয়ে থাকে। আবার প্রোসেস করা চুল রপ্তানি করা হয়। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী গ্রেড করা হয়। প্রোসেস করে থাকে সাধারণত দরিদ্র ঘরের মেয়েরা। তারা একশ গ্রাম চুল প্রসেস করে ১০০-২২৫ টাকা পেয়ে থাকে। এ কাজ করে তাদের কেউ কেউ মাসে দু’ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করে। প্রোসেস করা চুল গ্রেড অনুযায়ী ভাগ করা হয়। এ চুল প্রতি কেজি ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করা হয়।
এক কেজি চুল প্রোসেস করলে ৬শ’ গ্রামে টিকে। আতিয়ার রহমান বলেন, সারাদেশে ৫ লাখ হকার ও ব্যবসায়ী চুলের ব্যবসার সাথে জড়িত। আরো প্রায় ১০ হাজার মহিলা চুল প্রোসেসের সাথে যুক্ত। প্রতি কেজি চুল কত ডলার মূল্যে রপ্তানি হয় তা বলতে পারেন না দেশীয় চুল ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন বাংলাদেশের চুলের চাহিদা বেশি। চীনারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে চুল কিনে থাকে। তারাই বেশির ভাগ চুল কিনে তাদের দেশে রপ্তানি করে থাকে।
