মা হ বু ব আ ল ম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে গত ১০ মে সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা প্রযোজনা নাটক ‘ঘুমকুমারী’। ‘দ্য স্লিপিং বিউটি’ গল্পের ছায়া অবলম্বনে নাটকটি লিখেছেন বিভাগের অধ্যাপক নাট্যকার আফসার আহমদ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সহকারী অধ্যাপক রুবায়াত্ আহমেদ। বঙ্গদেশের রাজপুত্র রূপকুমার। প্রজাদের অধিকার নিয়ে রাজা মেঘশাহের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয় রূপকুমার। মায়ের সহায়তায় বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে সে যাত্রা করে অজানার উদ্দেশে। ঘুরতে ঘুরতে একসময় সে হাজির হয় কাঞ্চনপুর নামক এক রাজ্যে। সেখানে এক ফকিরের কাছে জানতে পারে সেই রাজ্যের দুর্দশার কাহিনি। ক্ষুব্ধ এক পরীর অভিশাপে রাজ্যের রাজকন্যা ঘুমিয়ে গেছে। শুধু কোনো রাজপুত্রের রক্তদানের মাধ্যমে সে আবার জেগে উঠবে, রাজ্য আবার প্রাণ ফিরে পাবে। রাজপুত্র সেই অসাধ্য সাধনের লক্ষ্যে ঘুমন্ত রাজপুরীতে প্রবেশ করে। রাজকন্যার কপালে রক্ততিলক এঁকে তাকে জাগিয়ে তোলে। রাজকন্যা ঘুমকুমারী জেগে উঠলে ঘুমন্তপুরী আবার জেগে ওঠে। জেগে ওঠে সাধারণ মানুষ। রাজপুত্র যে অধিকার নিয়ে পিতার সঙ্গে লড়াই করেছিল, কাঞ্চনপুরে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। নাট্য কাহিনির শেষটাই যেন এক বিপ্লবের ডাক দিয়ে যায়। রক্ত ছাড়া কোনো কিছুই অধিকার করা যায় না; কোনো অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায় না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথমবর্ষের পরীক্ষা প্রযোজনা ‘ঘুমকুমারী’। নির্দেশক খুব সাদামাটাভাবে নাটকের গল্পটি দর্শককে শোনানোর চেষ্টা করেছেন এবং পেরেছেন বলেও মনে হয়েছে। দৃশ্য নির্মাণে নির্দেশকের খুব একটা প্রয়াশ ছিল বলে মনে হয়নি এবং কোথাও কোথাও সেই প্রয়াসের অভাব বোধ তৈরিও হয়েছে। বর্ণনাত্মক নাট্যরীতির আশ্রয়ে নির্মিত এই দৃশ্যকাব্যে প্রাধান্য পেয়েছে সংগীত। আড়ম্বরপূর্ণ সেটের পরিবর্তে গ্রামীণ জীবনে ব্যবহার্য সাধারণ উপাদানকে উপস্থাপন করা হয়েছে নাট্যের উপযোগী করে। অভিনয়ের ভঙ্গিটিও সহজ, খানিক হাবভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। অবশ্য তাই হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে অভিনয় নিয়ে আহামরি প্রত্যাশা করাও একেবারে উচিত হবে না। কেননা নাট্যমাধ্যমে তাঁরা একেবারেই নবীন। তবে তাঁদের মধ্যেও যে দুই-একজন বেশ ভালো অভিনয় করেননি তা নয়। দুষ্টু পরী ও রাজকুমারীকে তো অভিনয়ে বেশ আলাদা করেই ভালো লেগেছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহিনূর আক্তার প্রীতি, মৌশ্রী দাস নিশু, তামিম হোসেন, নাহিদ আল মবিন, আকাশ তুহিন, শচীন ভট্টাচার্য, রেজওয়ান রাশেদ সোয়ান, আরিফুল ইসলাম নীল, শরণ এহসান, রিফা রাফিয়া, তুনতুন মজুমদার, নিশি ওয়াহেদ, সোহানা তানজীম, সাবরীন শ্রাবণী, আসমাউল হুসনা বৃষ্টি, শাকিল আহমেদ, নিশাত তাসমিন টুম্পা, শুক্লা রায়, মাহমুদুল হক মায়ান, মেহেদী ইসলাম, আবু রায়হান, তানভীর পালোয়ান অপূর্ব, ফারিয়া চৌধুরী ইতু, উষ্মিতা চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম জিসান ও সাজ্জাদুল আলম শুভ। নাটকের সংগীত ও পোশাক ছিল খুবই চমত্কার কিন্তু আলো খুব সাদামাটা বলেই মনে হয়েছে।
ছবি রাজীব হালদার
