রে জা উ ল ক রি ম খো ক ন
আশিষ মধ্যবয়সী একজন পুরুষ। বউয়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কেয়ার ফ্রি জীবনযাপন তার। হঠাত্ করে আশিষের জীবনে আলোর ঝলকানির মতো আবির্ভাব ঘটে আয়েশার। বয়সে কমপক্ষে ২০ বছরের ছোট হলেও প্রাণবন্ত স্বভাবের তরুণী আয়েশা আশিষের প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। বয়সের ব্যবধানটা আশিষ-আয়েশার রোমান্সে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তারা পরস্পরকে নিয়ে মেতে ওঠে। হাসি, আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে থাকে। এ নিয়ে পরিবারে অস্বস্তি দেখা দিলেও আশিষ মোটেও তা কেয়ার করে না। ২০ বছরের ছোট প্রেমিকাকে নিয়ে তার মধ্যে কোনো বিব্রতভাব নেই। যখন সে অল্পবয়সী প্রেমিকাটিকে স্থায়ীভাবে জীবনসঙ্গী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়, তখন উপস্থিত হয় তার প্রাক্তন স্ত্রী মঞ্জু। সঙ্গে প্রেমিকা আয়েশার সমবয়সী কন্যা ও পুত্র। শুরু হয় নতুন নাটক। ঘটতে থাকে মজার সব ঘটনা। এ সপ্তাহে মুক্তি প্রতীক্ষিত রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের সিনেমা ‘দে দে পেয়ার দে’-তে অসম বয়সী প্রেমিক-প্রেমিকার মজার প্রেমকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। নতুন এই বলিউডি ছবিতে সদ্য পঞ্চাশে পা রাখা অভিনেতা অজয় দেবগনের বিপরীতে তাঁর অল্পবয়সী প্রেমিকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং। তাঁর বয়স এখন ২৮ চলছে। আজকাল বলিউডের বয়স্ক নায়কদের বিপরীতে কম বয়সী নায়িকাদের হরদম দেখা যাচ্ছে। যদিও সেখানে নায়কদের অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে নায়িকার অভিনীত চরিত্রের বয়সের ব্যবধানটা দেখানো হয় না তেমনভাবে। তবে ‘দে দে পেয়ার দে’ ছবিতে মধ্যবয়সী একজন মানুষের প্রেমিকা সেজেছেন রাকুল প্রীত সিং। যেখানে তাঁদের বয়সের ব্যবধান ২০ বছর। অসম বয়সী প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের মজার প্রেমকাহিনির সিনেমাটিতে প্রথমবারের মতো বলিউডি তারকা অজয় দেবগনের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে গিয়ে মজার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এই অভিনেত্রী।’ গত বছর তাঁকে অনেকদিন পর একটি বলিউডি সিনেমা ‘আইয়ারিয়ান’-তে দেখা গিয়েছিল। অ্যাকশন থ্রিলার ধাঁচের সিনেমাটিতে রাকুলের বিপরীতে নায়ক ছিলেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। তারও আগে ২০১৪ সালে রোমান্টিক মিউজিক্যাল ছবি ‘আইয়ারি’-এর মাধ্যমে বলিউডে তাঁর অভিষেক। সেই ছবিতে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন রাকুল প্রীত সিং। বলিউডে তাঁর যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও নিজের ক্যারিয়ারকে দক্ষিণী সিনেমার অঙ্গনে কেন্দ্রীভূত করেছেন এই সুন্দরী।এক পাঞ্জাবি আর্মি অফিসারের কন্যা রাকুলের জন্ম দিল্লি শহরে। পড়াশোনা করেছেন আর্মি পাবলিক স্কুলে। ইউনিভার্সিটি অব দিল্লির অধীনে জেসাস অ্যান্ড মেরি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় থেকেই মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে প্রথম অভিনয় করেন কান্নাড়া ভাষার সিনেমা ‘গিন্নি’তে। ২০১১ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকারসহ বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে টাইটেল জেতেন রাকুল। এই মুহূর্তে দক্ষিণী সিনেমার অঙ্গনে একজন সুপারস্টার বিবেচনা করা হয় তাঁকে। দক্ষিণী সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে গ্রহণযোগ্য এবং ব্যস্ত রাখার মানসে আজকাল অনেক নায়িকাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাকুলও এসেছেন বলিউডে নতুন করে তাঁর ভাগ্য পরীক্ষা করতে। তবে চাইলে আরো আগেই বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সিরিয়াস হতে পারতেন। কারণ হিন্দি সিনেমার জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মতো যাবতীয় কোয়ালিটি রয়েছে তাঁর। পাঞ্জাবি মেয়ে হলেও রাকুল পেশাগত কারণে হায়দ্রাবাদে এখন স্থায়ী ঠিকানা গড়েছেন। সেখানে বিরাট বাড়ি কিনে বসবাস করছেন। ‘দে দে পেয়ার দে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে নিজের ভাগ্যটা পরীক্ষা করে দেখতে চান রাকুল প্রীত সিং।
