জামালপুরের রেলপথের ১২৬টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে অধিকাংশে গেট বেরিয়ার নেই। দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানি। গত এক বছরে লেভেল ক্রসিংগুলোতে শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২ আগস্ট ট্রেন চাপায় তিনজন নিহত হয়েছে।
জানা গেছে, জামালপুর হয়ে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৬৬ কি. মি.। দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর পর্যন্ত ৩৫ কি.মি.। মোট ১০১ কিলোমিটার রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং ৯০টি এবং অবৈধ ৪৭টি । ১৩৭টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে গেট বেরিয়ার আছে মাত্র ১৩টি। অবশিষ্ট ১২৫টির কোন গেট বেরিয়ার নেই। ১৩টি গেট বেরিয়ারের মধ্যে অধিকাংশ বিকল। এসব লেভেল ক্রসিংয়ে বেশিরভাগ গেটম্যান নেই। লেভেল ক্রসিংগুলোতে ‘সাবধান’ বিজ্ঞপ্তি টাঙানো রয়েছে, যা কোন কাজেই আসছে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাবধানতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তাদের দায়-দায়িত্ব পালন করছেন। তাই জনস্বার্থে এসব স্থানে গেট বেরিয়ার নির্মাণসহ গেটম্যান নিয়োগ দেয়ার দাবি করছে এলাকাবাসী।
ঈদ উপলক্ষে ট্রেন চলাচলের সময় অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলোতে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা। রাতে পরিস্থিতি আরও নাজুক থাকে।
রেলওয়ে পুলিশ, এলাকাবাসী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগসহ একাধিক সূত্র জানায়, গত এক বছরে লেভেল ক্রসিংগুলোতে শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি খোকন সরকার বলেন, রেলওয়ের আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনা ঘটলে রেলের কোন ক্ষতি হোক বা না-ই হোক ব্যক্তি কিংবা যানবাহনের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।
জামালপুর রেলপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন খান জানান, গেট বেরিয়ার ও গেটম্যান না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে ট্রেন চলাচল করছে। মানুষ ও যানবাহন দিন দিন বাড়ছে। ফলে লেভেল ক্রসিংগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি বছর এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার পরও কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
