ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। যানজটের অসহনীয় ভোগান্তির সাথে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। ভূঞাপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২৮ কিলোমিটার। সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১৫০ টাকার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। হাতে গোনা কয়েকটি বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথাপিছু ভাড়া হাকা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাসে দাঁড়িয়ে গেলে ৪০০ টাকা বসে গেলে পাক্কা ৫০০ টাকা। অসহায় এ মানুষ বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা হচ্ছে। গার্মেন্টকর্মীরা বাস না পেয়ে ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে গাজিপুর উদ্দ্যেশে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার নেই। গার্মেন্টসের কর্মী মরিয়ম জানায়, ঈদে কেনাকাটা ও অন্যান্য খরচ শেষে বাড়ি থেকে ৬০০ টাকা নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য রাত ৪টায় বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। এসে দেখি ১৫০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। টানা ৫ ঘণ্টা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। একই অভিযোগ করেন সালেহা, বিলকিস, শাহিদা, ঝর্ণা বেগম, মোশারফ, গিয়াসসহ আরো অনেকে। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, ভাড়া বেশি দিয়েও যাত্রীরা কর্মস্থলে যেতে চাচ্ছে। এ বিষয়ে কোন যাত্রী অভিযোগ করেনি।
কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যাত্রা
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রুহুল আমিন, মাজেদা, আলেয়া ও আলম খান ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল আত্মীয়-স্বজনের সাথে একত্রে ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করতে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ১৫০ টাকার স্থলে গুনতে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া। তারপরও কষ্টের যেন শেষ নেই। হরতাল ও শোক দিবসের ছুটি এবং রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে অনেকের পক্ষে অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তারপরও ট্রাক, পিকআপ, মিনিবাস, সিএনজিযোগে তিন/ চারগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যে যেভাবে পারছে চেষ্টা করছে কর্মস্থলে যাওয়ার। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ ৭০ কি. মি যানজট। রুহুল আমিন জানান, গত শনিবার সকাল ১০টায় ঘাটাইল থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলেও কবে নাগাদ ঢাকা পৌঁছতে পারব তার ঠিক নেই।
