কক্সবাজারের উখিয়ায় একজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে আড়াই লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। দীর্ঘ ১২ মাস পর ১৯ শয্যার সমপ্রসারিত হাসপাতাল ভবনের কার্যক্রম শুরু করা হলেও আগের নিয়মেই চলছে চিকিত্সাসেবা। চিকিত্সক সংকটের কারণেই শত শত রোগী চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। সিভিল সার্জন বলছেন, ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য পরিচালকের সাথে আলাপ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৬৭ সনে এ উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র রাজাপালং বটতলী গ্রামের ৫ একর খাস জমির উপর ১০ শয্যা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে উক্ত হাসপাতালটি ৩১ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিত্সক ও নার্স সংকটের মধ্য দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলে আসছিল স্বাস্থ্যসেবা।
বিগত তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে উক্ত হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও জনবল সমস্যা নিরসন করে হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সা সেবা চালু করা হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৩১ শয্যার হাসপাতালকে ৫০শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে পুরাতন হাসপাতাল ভবনের পার্শ্বে গড়ে তোলা হয় ৩ তলা বিশিষ্ট ১৯ শয্যার হাসপাতাল ভবন। এ ভবনটি গত ২ জুলাই ২০১২ ইং তারিখে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও জনবল সংকট দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমপ্রসারিত হাসপাতাল ভবনটি বন্ধ রাখে। দীর্ঘ ১২ মাস পর জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশক্রমে উক্ত হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু হয় সবেমাত্র।
সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেন্টাল সার্জন রাজীব নাথ ও মেডিকেল এসিসটেন্ট রোগী দেখে তাদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। জানতে চাওয়া হলে, মেডিক্যাল এসিসটেন্ট সুমতি সেন জানান, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক আলী আহসান কক্সবাজার সদরে আরএমও হিসেবে বদলী হয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম আবু সাঈদ প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে রোগীদের চিকিত্সা সেবা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা. রিদুয়ান তারিন জানান, একাই হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম দেখাশুনা করতে হচ্ছে। তিনি জানান, গত ১৭ জুন এ হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. মনোয়ারা সুলতানা লীনা যোগদান করলেও এ পর্যন্ত হাসপাতালে আসেনি।
জানা যায়, ৩১ শয্যা হাসপাতালের জন্য ৯ জন ডাক্তার, ১২ জন নার্স, ৩ জন গাইনী বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ১৬০ জন লোকবল থাকার কথা থাকলেও এ হাসপাতালে একজন ডাক্তার ২ জন নার্স দিয়েই চলছে আড়াই লক্ষ মানুষের চিকিত্সা সেবা।
