মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হলেও পানির অভাবে জাগ দেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া দাম ভাল না পাওয়ায় চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এবার গাংনী উপজেলায় ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় দেড়গুণ বেশি। কৃষি অফিসের পরামর্শ আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার চাষিরা বেশি জমিতে পাট চাষ করে। বিঘা প্রতি ফলনও পাচ্ছেন কৃষকেরা। তবে দাম নিয়ে হতাশ হয়েছেন কৃষকরা।
গাংনীর শিমূলতলা গ্রামের পাটচাষি সিদ্দিকুর রহমান জানান, গতবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এবার ১২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এমনিতে ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে পারছেন না। আবার পাটের মূল্য তেমন নেই। এক মণ পাট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮শ টাকায়। তিনি আরো জানান, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি হলেও বেশি দামের আশায় তিনি পাট চাষ করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে পুকুরে মাছ চাষ বন্ধ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানির ব্যবস্থা করায় তুলনামূলকভাবে পাট উত্পাদনের খরচ বেশি হয়েছে। অথচ দাম ভাল পাচ্ছেন না। একই কথা জানালেন কুঞ্জনগর গ্রামের পাট চাষি রফিকুল ইসলাম। তিনি এবার ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বাওট গ্রামের পাটচাষি কানন মন্ডল জানান, এবার তিনি ১৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাটের দাম আশানুরূপ না হওয়ায় তার লোকসান হবে বলে আগামীতে তিনি পাটচাষ কমিয়ে দেবেন বলে জানান।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাজেদুল হক জানান, সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ার কারণে পাটের গুণগত মান কমে যাচ্ছে। ফলে চাষিরা আশানুরূপ মূল্য পাচ্ছেন না।
