দীর্ঘ ৩৬ বছর যাবত্ বিমান চলাচল বন্ধ থাকলেও অবশেষে এ সরকারের আমলে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গত প্রায় ৪ মাস পূর্বে এ বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের জন্য ব্যয়ের হিসাবপত্র করাসহ বিমানবন্দরটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে ঢাকা-কুমিল্লা দুই/আড়াই ঘন্টার পথ যানজটে আটকা পড়লে পাড়ি দিতে প্রায় ৫/৬ ঘন্টা সময় লেগে যায়। এ বিমানবন্দর চালু হলে ২০ মিনিটেই ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এ বিমানবন্দরটি চালু করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি কোম্পানিকে কুমিল্লায় পাইলট ট্রেনিং স্কুল করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে কুমিল্লার অর্থনীতিসহ সার্বিক ক্ষেত্রে যোগ হবে নতুন মাত্রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিমানবন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। এখানে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করে। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দরের সকল যন্ত্রপাতি থাকলেও গত ৩৬ বছর ধরে এ বন্দর থেকে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি এ বিমানবন্দরে আরো ৮ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। ৭৭ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ বিমানবন্দরটি এখন আন্তর্জাতিক রুটের সিগনালিংয়ের কাজ করছে। এ বিমানবন্দরে জনবল রয়েছে ৩০ জন, এরমধ্যে ১৫ জন স্থায়ী ও ১৫ জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন। বর্তমানে প্রতি মাসে সিগনালিংয়ে এ বন্দর আয় করছে ২৫/৩০ লাখ টাকা।
এদিকে, বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত রানওয়েতে এখন প্রাইভেটকার ও মোটর সাইকেল চালনায় আগ্রহীরা প্রশিক্ষণ নেন। সূত্র জানায়, কুমিল্লার সাথে আভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলের জন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সাথে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রীর কথা হয়েছে এবং এসব রুটে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস্ থেকে ২০ সিটের ছোট বিমান চালুর বিষয়ে চিন্তাধারা সরকারের রয়েছে। কুমিল্লা ইপিজেডের জি.এম আবদুস সোবহান জানান, ‘বিমানবন্দর চালু হলে কুমিল্লা ইপিজেডে আরো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী আসতো, কর্মসংস্থান হতো বিপুলসংখ্যক মানুষের।’
কুমিল্লা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আবদুল গণি জানান, ‘বিমানবন্দরের সকল যন্ত্রপাতি রয়েছে। শুধু প্রয়োজন রানওয়ের সংস্কার। গত ৩/৪ মাস পূর্বে এ বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের স্টিমিট করাসহ বিমানবন্দরটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জেনেছি।
এছাড়া সম্প্রতি রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপি কুমিল্লা বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এ সরকারের আমলেই কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনার কথা জানান।
