দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার মাওয়ায় বাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একে তো মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের কাওয়াড়াকান্দি প্রান্তে দীর্ঘ যানজট। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পর কোন রকমে মাওয়া প্রান্তে এসে আবার পড়তে হচ্ছে পরিবহন সংকটে। মাওয়া প্রান্তে বাস মালিকদের সৃষ্টি করা কৃত্রিম পরিবহন সংকটে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সি-বোটে নদী পাড়ি দিতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপে দুর্ভোগ ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে মানুষ। মাওয়া ঘাটে নদী পার হয়ে আসা যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই সুযোগে বাস কাউন্টারে মাওয়া থেকে ঢাকা জনপ্রতি বাস ভাড়া ৬০ টাকার স্থলে ৮০ থেকে ১শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর কাউন্টারবিহীন লোকাল বাসগুলো ছাদের ভাড়া ১ শ’ টাকা আর ভেতরে সিটের ভাড়া নেয়া হচ্ছে দেড় শ’ টাকা। কাওড়াকান্দি ঘাট হতে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে সি-বোট, লঞ্চ আর ট্রলারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তাই যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশিকুজ্জামান জানান, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর যাত্রীরা এখন ঢাকার দিকে ছুটছে। সবাই একই সময়ে ঢাকামুখী হওয়ায় কাওড়াকান্দি ঘাটে যাত্রী ও গাড়ির বাড়তি চাপ রয়েছে। ফলে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে যানবাহন কম আসছে বলে মাওয়া প্রান্তে তেমন কোনো চাপ নেই।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. সাহাদাত হোসেন জানান, বাস মালিক সমিতির একটি সিন্ডিকেট ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় রেখে মাওয়া ঘাটে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, কৃত্রিম বাস সংকট সৃষ্টি করে ৪৫ জন ধারণ ক্ষমতাসমপন্ন একটি বাসে ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। ফলে অনেক কষ্টে গাদাগাদি করে যাত্রীদের ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এতে এক ট্রিপে বেশি ভাড়া আদায় করে লাভবান হচ্ছেন বাস মালিকরা। এদিকে মাওয়ায় বাস মালিকদের সৃষ্টি করা বাস সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে অনেকটা পথ হেঁটে বা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ বিকল্প বিভিন্ন যানবাহনে করে ঢাকা ফিরতে হচ্ছে। এক্ষেত্রেও তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
সরকার টোল ফ্রি করে দিলেও হাইকোর্টের এক আদেশের সুযোগে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের সি-বোট ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সি-বোটের ভাড়া জনপ্রতি ১৩০ টাকার পরিবর্তে ১৮০ থেকে দুইশ’ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
প্রচেষ্টা পরিবহনের চেয়ারম্যান মো. নোমান মিয়া বলেন, ঈদের ছুটি এবং হরতালের পর দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঢাকামুখী প্রবল চাপের কারণে কিছুটা পরিবহনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে শনিবার দুপুর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
