পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ফতেহ মসজিদ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫০
মিসরের রাজধানীর আল ফতেহ মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। মুসলিম ব্রাদারহুড কর্মীরা শুক্রবার থেকে এই মসজিদে অবস্থান নিয়েছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মসজিদে অবস্থানকারীদের সবাইকে গতকাল শনিবার আটক করা হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব। সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে। খবর বিবিসি, আল জাজিরা, সিএনএন ও রয়টার্সের। নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদে ঢোকার আগে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদটির প্রধান মিনার লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। তবে সরকার বলছে, মিনারের ওপর থেকে পুলিশের দিকে গুলি করা হলে তার জবাব দেয়া হয়। মসজিদের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দিনভর মুরসি বিরোধী বহু লোকজনকে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হলে নারী-পুরুষসহ এক হাজারেও বেশি মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক ওই মসজিদের ভেতর আশ্রয় নেয়। পুলিশ ও সৈন্যদের হুঁশিয়ারিতে অনেকে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেও, একশরও বেশি লোক কোনোভাবেই বেরুতে রাজি হচ্ছিল না। মানুষজন প্রাণের ভয়ে বেরুতে ভয় পাচ্ছে। মিসরের সেনা-সমর্থিত অস্থায়ী সরকারের একজন মুখপাত্র গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের ক্ষমতায় ফেরা কোনভাবেই আর সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডকে বরং নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি বলেন, সরকার আপস মীমাংসার পথে যাবার কথা ভাবছিল। কিন্তু যাদের হাতে রক্ত এবং যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে ও আইন ভঙ্গ করে তাদের সাথে কোন আপস নয়। মিসরে রক্তপাতের ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহবান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সামঞ্জস্যহীন রয়েছে। লন্ডনভিত্তিক এ মানবাধিকার সংগঠন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদেরকে মিসরে মুরসি সমর্থকদের ওপর সরকারি দমন অভিযানের তদন্তের অনুমতি দেয়ারও আহবান জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়েছে মিসরে ব্রাদারহুড ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে শুক্রবার নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩। আহতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। ব্রাদারহুড তাদের ফেসবুক পাতায় জানিয়েছে, সংগঠনের আধ্যাত্মিক নেতা জেনারেল মোহাম্মদ বাদির ছেলে আম্মার বাদি মারা গেছেন। শুক্রবার কায়রোর রামসেস স্কোয়ারে গুলিতে মারা যান ৩৮ বছর বয়সী আম্মার বাদি। প্রেসিডেন্ট মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির পরপরই সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়। রক্তাক্ত ক্ষোভ দিবস মুসলিম ব্রাদারহুড দলের ডাকা শুক্রবারের ‘ক্ষোভ দিবসে’ সহিংসতার কেন্দ্র ছিল কায়রোর কেন্দ্রস্থলে রামসেস স্কয়ার। কায়রোর বাইরে আলেকজান্দ্রিয়া, ইসমাইলিয়া, দামিয়েত্তাসহ অন্যান্য শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। সেনা অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনই বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ব্রাদারহুড। সৌদি বাদশাহর সমর্থন এদিকে মিসরের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ। মিসরকে ধ্বংসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তিনি আরব দেশের নেতাদের এগিয়ে আসারও আহবান জানিয়েছেন। অপরদিকে নিহতদের স্মরণে জেরুজালেমে বিক্ষোভ করেছে হামাস। গণবিক্ষোভের মুখে গত ৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উত্খাত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে আসছে ব্রাদারহুড। ব্রাদারহুড এবং তার মিত্র সংগঠনগুলো কায়রোর দুইটি জায়গায় বিশাল অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে আসছিলো; কিন্তু বুধবার রাবা আল-আদাউইয়া মসজিদের সামনে এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নেহাদা স্কয়ারে অবস্থিত সমাবেশগুলো ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে। মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, বুধবারের সংঘর্ষে সারা দেশে অন্ততপক্ষে ৬৩৮ জন মারা গেছেন।