সোনার বাংলা গড়ার বড় বাধা দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫২
বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ সত্যিই সোনার বাংলা হয়ে উঠবে। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে না পারলে সোনার বাংলা গড়ে তোলা খুব সহজ হবে না। অবশ্য এ দুই সমস্যাসহ দেশের বিদ্যমান সব সমস্যাই সমাধানযোগ্য। এক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা একথা বলেন। ‘প্রবাসী বাংলাদেশি ও প্রবাসীদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বীকৃতি শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এতে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, ডিসিসিআই সভাপতি সবুর খান, সাবেক সচিব সোহেল আহমদ চৌধুরী, এসোসিয়েশন, অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নূরুল আমীন, ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপার্সন এমএস সেকিল চৌধুরী। আগামী এক দশকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে উল্লেখ করে ড্যান মজিনা বলেন, সোনার বাংলা গড়তে নাগরিকদের জন্য আবাস, পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা, ভাল স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রয়োজন। আর এগুলো অর্জন করতে বাংলাদেশ অবশ্যই সক্ষম হবে। এক সময়ে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হলেও এখন তা অর্থনীতির বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে তা আমার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলে যায়। এসব আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলে বাংলাদেশ সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ার টাইগারে পরিণত হবে। তিনি আশা করেন, চীনের স্থান দখল করে বাংলাদেশ পোশাক রফতানিতে প্রথম স্থানে থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়। আর চীন থেকে বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় ৩৯০ বিলিয়ন ডলারের। ভৌগলিক দিক থেকেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক করিডোর হচ্ছে বাংলাদেশ, যা একুশ শতকের বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। মজিনা বলেন, সোনার বাংলা গড়তে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে শিক্ষার বিপ্লব ঘটানো প্রয়োজন। কারণ সবক্ষেত্রেই দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বেশ ভাল। বিশেষ করে ভারতের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। এ প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হতো যদি বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যেত। যদি এ দুটি বিষয় ঠিক থাকত, তাহলে দেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির চেয়ে দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেশি হত বলে তিনি মনে করেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ যাতে উত্পাদনশীল খাতে ব্যয় হয় সেজন্য অনুষ্ঠানের বক্তারা তাগিদ দেন।