অটিস্টিক শিশুদের অবহেলা না করে তাদেরকে উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষা দিতে হবে। তাহলে আট/দশটা সাধারণ শিশুর মত অটিস্টিক শিশুর মধ্যে যে প্রতিভা রয়েছে, তা বেরিয়ে আসবে। গতকাল শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অটিস্টিক শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল অটিস্টিক স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারপারসন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মনোবিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বক্তব্য রাখেন। সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের মহাপরিচালক নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
সায়মা হোসেন পুতুল বলেন, আপনারা (অভিভাবক) অটিস্টিক শিশুদের খাটো করে দেখবেন না এবং নিজেদের ছোট ভাববেন না। অটিস্টিক শিশুরা পরিবারের বোঝা নয়, তাদেরকে সুশিক্ষা দিলে অন্য শিশুদের চেয়েও তারা বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে। ইতিবাচক দৃষ্টিতে অটিস্টিক শিশুদের দেখতে হবে। তিনি বলেন, আগে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে তাদের অভিভাবকরা ঘর থেকে বের হতে লজ্জাবোধ করতেন। এখন আর সেই পরিবেশ নেই। অনুষ্ঠানে এত অভিভাবক ও অটিস্টিক শিশুদের উপস্থিতি তা প্রমাণ করে।
প্রসঙ্গত, সায়মা হোসেন পুতুল অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। জাতিসংঘ তার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশংসা করেছে। পেয়েছেন অটিজম মাদার হিসেবে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অটিজম সম্মেলন হয়েছে। সেখানে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীসহ অটিজম নিয়ে কাজ করেন এমন অনেক বিখ্যাত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে দেশে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। সম্মেলন সফল করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠান শেষে অটিস্টিক শিশুদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা পুতুল।
