গত এক বছরে যেসব নারীর বিয়ে হয়েছে তারা সবাই এখন বাবার বাড়িতে। শ্বশুর বাড়িতে থাকলে স্বামীর চোখ অন্ধসহ অমঙ্গল হবে এমন ধারণায় নববধূরা চলে এসেছেন বাপের বাড়িতে। এ যেন রীতিমত একটি উত্সব। ভাদ্র মাসকে স্থানীয় ভাষায় ‘ভাদর’ মাস বলায় এই উত্সবের নামও ‘ভাদর কাটানী’। জানা গেছে, পঞ্চগড়সহ উত্তরের অনেক জেলাইতেই এই রেওয়াজ চলছে শত শত বছর ধরে। ভাদ্র মাসের প্রথম দিন সূর্য ওঠার আগেই নববধূরা চলে যান বাপের বাড়ি। কথিত আছে, ভাদ্র মাসের প্রথম সাত দিন শ্বশুর বাড়িতে থাকলে স্বামীর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে। তবে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে নববধূরা শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করলেও আজ পর্যন্ত কোন স্বামীর চোখ অন্ধ হয়ে গেছে তা জানা যায়নি। শুধু অন্ধ বিশ্বাসের কারণে আজও সেই প্রথা মেনে চলছে মানুষজন। নববধূরা স্বামীকে নিয়ে শ্রাবণের শেষের দিনে হাজির হয় পিত্রালয়ে। মেয়ে-জামাইকে কাছে পেয়ে সাধ্যমত আদর যত্ন করেন তারা।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বলেয়া পাড়া গ্রামের মহছেনা আক্তার সুইটির বিয়ে হয়েছে দুই মাস আগে। স্বামীর বাড়ি জেলা শহরের রাজনগরে। তিনি এখন বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। শ্রাবণের শেষ দিনে তিনি চলে এসেছেন এখানে। কেন এসেছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ভাদ্র মাসের শুরুতে শ্বশুর বাড়িতে থাকলে স্বামীর অমঙ্গল হয় তাই বাবার বাড়ি চলে এসেছি। একই উপজেলার ঘাটিয়ার পাড়া গ্রামের ঝড়ুয়া মোহাম্মদের মেয়ে জেসমিনের বিয়ে হয়েছে একমাস আগে। স্বামীর বাড়ি একই উপজেলার চার মাইল নামক স্থানে। বাবার বাড়ির লোকজন জেসমিনকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে এসেছে। একই গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের কন্যা কবিতার বিয়ে হয়েছে ৯ মাস আগে। তাকেও তার ভাই গোয়ালপাড়া এলাকায় শ্বশুর বাড়ি থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে।
পঞ্চগড়ের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের আদি ঐতিহ্য ‘ভাদর কাটানী’। প্রাচীনকাল থেকেই এই ঐতিহ্য চলে আসছে। এ অঞ্চলটি আগে প্রচুর হিন্দু ধর্মের লোকজন বসবাস করত। মূলত তারাই এই উত্সব পালন করে থাকেন। হিন্দু-মুসলিম একসাথে বসবাস করার কারণে কালক্রমে তাদের এই উত্সবটি মুসলমানরাও পালন শুরু করে। অবশ্য এখন শিক্ষিত লোকজন এই উত্সব আর পালন করেন না। তবে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনও এই প্রথা চালু রেখেছে।
