আবারো শিবগঞ্জে বন্যায় ২৫ হাজার বিঘার ফসল পানির নিচে

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৬
জেলার শিবগঞ্জে আবারো বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫ হাজার বিঘা জমির ধান ও সবজি ডুবে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গতকাল শনিবার দেখা গেছে, বিভিন্ন নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ছত্রাজিতপুর, দূলর্ভপুর, মনাকষা, বিনোদপুর, পাঁকা, উজিরপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়ন আবারো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কৃষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে যে পরিমাণ বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল, গত ২ দিনে তার চেয়ে বেশি অবনতি হওয়ায় কৃষকের হতাশা না কমে আরো বেড়েছে। আবু হোসেন, সাদিকুল, হুমায়ন, পারুলসহ প্রায় ৩০/৩৫জন কৃষক জানান, এ পর্যন্ত ২৪/২৫ হাজার বিঘা জমির ধান পানির নিচে। এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ফারুক বলেন, ৭টি ইউনিয়নে ৪হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেলও ধানের ক্ষতি হবে না। মনাকষা, পাঁকাও, দূর্লভপুর ইউনিয়নে মোট প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ও বাকি ইউনিয়নগুলোতে ৫শ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে আরো জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের কৃষকারা। এমনিতে তারা নদী ভাংগনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে। মানবেতর জীবন যাপন করছে। এরপর আবার তারা যেটুকু আবাদ করেছিল সেটুকুও পানির নিচে। তারাপুরের কৃষক মিজানুর জানান, তিনি ৮ বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ধানের আবাদ করে গত এক সপ্তাহের আকস্মিক বন্যায় ৫বিঘা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পারচৌকার জুন্নুর জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করতে ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। বর্তমানে ৪বিঘা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই ধরনের কথা বললেন অন্যান্য ইউনিয়নের কৃষকরাও। শুধু ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে তা নয়। বর্তমানে ৭টি ইউনিয়নে ২০টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু পাঁকা ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবার পানি বন্দি রয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আ. মালেক জানান। উজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫/৬শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে । এ পর্যন্ত পানি বন্দি পরিবারগুলোর কাছে কোন ধরনের সাহায্য পৌঁছেনি বলে এ প্রতিবেদককে জানানো হয়। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি অফিসে না আসায় কিছু জানা যায়নি।