যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের আগে ঘরমুখী মানুষের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। সড়কের জন্য মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। কিন্তু ঈদের পর ৪৮ ঘণ্টা হরতালের কারণে যে দুর্ভোগ হয়েছে মন্ত্রী হিসেবে তার দায় এড়াতে পারি না। এই দুর্ভোগের জন্য তিনি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক ভালো অর্জন করেছে। আপনারা যদি জনগণের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন তবে সে অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। ভুল করে থাকলে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করুন। তাতে আপনাদের সম্মানহানি হবে না। শনিবার সকালে স্থানীয় পাবলিক ময়দানে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
কয়েকটি টেলিভিশনে শুক্রবার প্রচারিত স্ক্রলের (সংবাদ) উদ্ধৃতি দিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সেখানে বলা হয়েছে আগামী দুই মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। কিন্তু আমি এমন কথা বলিনি। আমি বলেছি পদ্মা সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তিনটি কোম্পানি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছে। টেন্ডার যাচাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু হবে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর সংবাদ আমাকে হতাশ করেছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে হবে। সাংবাদিকদের দলীয় মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু দলবাজি করা ঠিক নয়। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, আমি জনগণের জন্য কাজ করি বলেই শুক্র ও শনিবার ছুটি ভোগ করি না। এমনকি মন্ত্রী হবার পর মাত্র একবার মালয়েশিয়া সফরে গিয়েছি। কাজ না করলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রীকে খুশি করা জনগণের কাজ নয়। বরং মন্ত্রীর কাজ জনগণকে খুশি করা। মন্ত্রীকে খুশি করার জন্য শিশুদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে ফুল ছিটানো আমি পছন্দ করি না। শোকের মাসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করা ঠিক হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল কাদের বলেন, হাইব্রিড আর ফরমালিনের মতো কিছু মানুষ রাজনীতিতে এসে রাজনীতি কলুষিত করছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে চরিত্রবান মানুষ না আসলে রাজনীতি চরিত্রহীন হয়ে যাবে। এ কারণে ভালো মানুষকে রাজনীতিতে আসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি, দাখিল, এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৯৭ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খান টিপু সুলতান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, আওয়ামী লীগ নেত্রী ইসমত আরা সাদেক প্রমুখ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
