এশিয়ার নোবেল খ্যাত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন আফগানিস্তানের এক নারী গভর্নর। প্রথমবারের মতো কোনো আফগান এ পদক পেলেন। কেবল তা-ই নয়। গোটা আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা গভর্নর তিনি। তার নাম হাবিবা সারাবি। এই সেই বামিয়ান ২০০১ সালে যেখানে ঐতিহ্যমণ্ডিত প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির ভেঙে দিয়েছিল তালেবানরা। সেই বামিয়ান, যাকে দেশের সবচেয়ে গরিব এবং শিক্ষাগতভাবে সর্বাধিক পশ্চাত্পর প্রদেশ। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই হাবিবাকে তিনিই মনোনীত করেছিলেন গভর্নর হিসেবে। কাবুলে বড়ো হয়ে ওঠা, ডাক্তারি পড়া, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ফেলোশিপ নিয়ে ভারতে পড়তে আসা, স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর তালেবান শাসনাধীন আফগানিস্তান ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে আসা। যদিও স্বামী দেশে থেকে যাওয়ায় বারবার যাওয়া-আসা করতে থাকেন হাবিবা। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান দুই দেশের উদ্বাস্তু শিবিরে ডাক্তারির কাজ করেন, মেয়েদের পড়ান। ১৯৯৮ সালে পাকাপাকি দেশে ফিরে যান এবং হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্টান্স ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন অব আফগানিস্তান-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।
বামিয়ানের গভর্নর হিসেবে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির জন্য লড়াই করে চলেছেন তিনি। হিরোজ অব এনভায়রনমেন্ট রিপোর্টে টাইম ম্যাগাজিন ২০০৮ সালে তার গুণগান করে। তার এই দীর্ঘ আন্দোলনের পথে বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীকে পাশে পেয়েছেন। এখন তিনি একা নন। প্রশাসক হিসেবেই একটা বিরাট আন্দোলনের নেত্রী। দেশের মানুষের ভবিষ্যতের মানুষের কথা ভেবেই তিনি এই আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান।
