বাংলাদেশের ৭টি বিভাগে ৭ জন জেলা পরিষদের প্রশাসকের মাঝে দু’জন নারী। যারা অত্যন্ত সম্মানসূচক পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। তার মধ্যে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলা। তাকে নিয়ে কিছু কথা—
১৯৪৬ সালের ১১ মার্চ ভারতে জন্মগ্রহণ করেন হাসিনা দৌলা। বাবা ছিলেন তত্কালীন ভারতের জেলা ও দায়রা জজ। মা নাসিরা বিবি ছিলেন গৃহিণী। পারিবারিক একটি ঐতিহ্য ছিল তাদের। দাদা স্যার সৈয়দ মাওলানা মোহাম্মদ ইফরান আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ভিসি ছিলেন, চাচা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
আই.এ পাস করার পর বিয়ে হয়ে যায় হাসিনার। তত্কালীন সম্ভ্রান্ত যৌথ পরিবারের রেওয়াজ অনুযায়ী বড় বউয়ের দায়িত্ব পালনের ভিড়ে ঢাকা পড়ে তার পড়াশুনা। বিয়ের দশ বছর পর নিজের ইচ্ছা আর স্বামীর সহযোগিতায় পড়াশুনা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ পাস করেন।
ব্যক্তিজীবনে স্বামী মরহুম প্রকৌশলী শফি উদদৌলা, ১ ছেলে আরিফ উদদৌলা ও মেয়ে সুস্মিতা উদ্দীন। বিয়ের পর স্বামীর হাত ধরে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন, সেটা ১৯৯৮ সালের কথা। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এক সময় এদেশে বিখ্যাত হয়ে যায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাইক্রো ইলেক্ট্রোনিক লিমিটেড। ২০০১ সালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর ঝড় বয়ে যায়। রাজনৈতিক কারণে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয় তাকে। আজ তিনি একজন সফল নারী বা সফল ব্যবসায়ী। তিনি তার কর্মময় জীবনে নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করেন এবং বহু সম্মানিত পদ অলংকৃত করেন। তার মধ্যে রাজনৈতিক পদবি ছাড়াও বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য ও বাংলাদেশ গার্লস গাইড এসোসিয়েশনের সাবেক ঢাকা জেলা কমিশনার।
কাজের প্রয়োজনে বিশ্বের বহু দেশে ঘুরে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, আমি পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে এসেছি। আমি যখন রাজনীতি শুরু করি তখন এভাবে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ছিল না। রাজনীতি করে বুঝেছি মানুষের জন্য কাজ করার চেয়ে বড় কিছু নেই। সেই ভাবনা থেকেই আর্তমানবতার সেবায় বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গির্জায়, আর্থিক সহযোগিতা করেন তিনি। মাইক্রো ইলেক্ট্রোনিক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি সফলতার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক। তিনি বলেন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে যেদিন দায়িত্ব পেয়েছেন সেসময় থেকে আজ পর্যন্ত নানা প্রতিকূল পরিবেশ কাটিয়ে আসছি। যদিও এখন জেলা পরিষদের অবস্থা অনেকটা ভাল তবে এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে একজন নারী প্রশাসক এই পদে থেকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয়েছে।
