বিএনপি নেতা রফিকুল খুন

হত্যার দায় স্বীকার করে শাশুড়ির জবানবন্দি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২১:২১
ঢাকা মহানগর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবাজার মার্কেট কমপ্লেক্সের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজুমদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তার শাশুড়ি লিপি বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি মহম্মদ আলি মহব্বতও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শাশুড়ি লিপি বেগম তার জবানবন্দিতে বলেন, ছোট মেয়ের সাথে বিয়ের দু’মাসের মধ্যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে জামাই রফিকুল ইসলাম। নইলে তার ছোট মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখাত। কিছুদিন পর এ দৈহিক সম্পর্ক নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য বাড়ি তৈরি করে দেয়। মাসে ২/৩ বার তার বাড়িতে আসতো এবং দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো। এতে তার মধ্যে আক্রোশের সৃষ্টি হয়। জবানবন্দিতে তিনি আরো জানান, তার ছোট ভাইয়ের বন্ধু মহব্বত। জামাইকে পেটানোর জন্য তার সাথে কথা বলেন তিনি। পরিকল্পনা করেন রফিকুলের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করবে মহব্বত। প্রতিবেশি যুবক রানার মাধ্যমে মহব্বতের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকেন লিপি বেগম। জামাই বাড়িতে এলে মহব্বতকে খবর দেয়ার কথা হয়। রফিকুলকে যারা নিতে আসবে তারা নিজেদেরকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন একটি মাইক্রোবাস রাত সাড়ে ৭টা- ৮টার দিকে তার বাড়ির সামনে এসে থামে। আগের কথামত ৫ / ৬ জন বাড়িতে ঢুকে রফিকুলকে তুলে নিয়ে যায়। এর দেড় ঘন্টা পর বড় জামাই খবর দেয় কুমারখালীর আদাবাড়ে গ্রামের মাঠের মধ্যে রফিকুলের লাশ পড়ে আছে। আদাবাড়ে গ্রামের ইন্তাজ আলি মোল্লার ছেলে মহম্মদ আলি মহব্বত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে রফিকুলের হত্যা ষড়যন্ত্রে বিবরণ দিয়ে কারা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল তাও উল্লেখ করে। ১০ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে কিভাবে রফিকুলকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় তার বিবরণ আছে। র্যার ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে এনে ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাভেজ শাহরিয়ারের আদালতে তাদের হাজির করে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে গ্রেপ্তারকৃতরা ছাড়াও খেলাফত, শিমুল, সোহেল, মধু ও তোতা জড়িত বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর লোক পরিচয়ে রফিকুল ইসলামকে শাশুড়ির বাড়ি থেকে মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার একটি পিঁঁয়াজ ক্ষেতে হত্যার পর রফিকুলের লাশ ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পর ১৪ জানুয়ারি নিহত রফিকুলের ছোট ভাই মফিজুর রহমান বাদি হয়ে শৈলকুপা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলার তদন্ত ভার র্যাবের উপর ন্যস্ত করা হয়। ৬ আগস্ট র্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রফিকুলের শাশুড়ি লিপি বেগম, মহম্মদ আলি মহব্বত, ফজলুর রহমান ও মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।