বিশ বছরে খুলনায় অর্ধ শতাধিক রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হলেও উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অপরাধীরা বেকসুর খালাস পেয়ে গেছে। আবার অনেক মামলার এখনও তদন্তই শেষ হয়নি। যার ফলে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে অপরাধী ও তাদের মদদদাতারা। গত ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই কমরেড রতন সেনকে কুপিয়ে হত্যার মধ্য দিয়ে খুলনায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। এরপর নিহত হয়েছেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম, ওয়ার্ড কমিশনার মোসলেম উদ্দিন খান, জাপা নেতা শেখ আবুল কাশেম, কেসিসির সাবেক ডেপুটি মেয়র ইখতিয়ার উদ্দিন বাবলু, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম এ রব, সাংবাদিক হারুন-অর-রশিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সরদার আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম কুটু এবং মঞ্জুর মোর্শেদ লাবু। এছাড়া শ্রমিক নেতা ফ, ম সিরাজ, মানিক, ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, আবু সাইদ বাদল, ছাত্রদল নেতা ওয়াহিদুজ্জামান চঞ্চল, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন , মামুনুর রশিদ লিপন, সিটি কলেজের সাবেক জিএস জহির উদ্দিন পান্না, যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম লিটন, ছাত্র শিবির নেতা কাশেম পাঠান, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মানিক সাহা ও হুমায়ন কবির বালু, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কাউন্সিলর শহীদ ইকবাল বিথার, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, বিএনপি নেতা ফুলতলার দামুদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বাদলসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
১৯৯৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রতন সেন হত্যা মামলা, ২০০৮ সালের ২৭ জুন সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু হত্যা মামলা, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমামসহ ট্রিপল মার্ডার মামলা, সাংবাদিক হারুন-অর রশিদ হত্যা মামলার রায় হয়েছে। এসব রায়ে মামলার আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়ে গেছে। সাংবাদিক মানিক সাহা, চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় পার্টির (এ) মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম হত্যা মামলার রায় এখনও হয়নি। ২০০৯ সালের ১১ জুলাই নিহত যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদ ইকবাল বিথার, ২০১০ সালের ১৬ অক্টোবর নিহত ফুলতলার দামুদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বাদল, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নিহত জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিমের মামলার চার্জশীট এখনও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার আহবায়ক অধ্যক্ষ জাফর ইমাম বলেন, দুর্বল পুলিশী তদন্ত, প্রভাবিত প্রশাসন, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অপরাধী, পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতারা চিহ্নিত না হওয়ায় আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সবাই পার পেয়ে যাচ্ছে। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খুলনা নাগরিক ফোরামের চেয়ারপার্সন শেখ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড গুলোর বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত।
