ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫০
পঞ্চগড়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আমিনার লেখাপড়া অর্থাভাবে কি বন্ধ হয়ে যাবে। যশোরের দিনমজুর পুত্র ইব্রাহীমের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তমসাবৃত, ইংরেজীতে অনার্স পড়তে চায় ভাণ্ডারিয়ার দিনমজুরের মেয়ে নিশি, জিপিএ-৫ পেয়েও মেয়ের ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তিত কাঠালিয়ার রেবেকা আখতারের পরিবার। এছাড়া শত অভাব দারিদ্র্যতার মাঝেও আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন শিবগঞ্জের রোকসানা ও মোহাঃ জসিম উদ্দিন। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। পঞ্চগড়: জেলা সদরের খোলাপাড়া গ্রামের মেয়ে আমিনা খাতুন ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করলেও উচ্চশিক্ষা নিয়ে শংকিত। পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। আমিনার পিতা আব্দুল মজিদ স্থানীয় জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করে। মাসে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে সংসার চললেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার সামর্থ্য তার নেই। আব্দুল মজিদ জানান, শুনেছি সে ভাল রেজাল্ট করেছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষার খরচ তো আমি চালাতে পারবো না। আমিনা জানান, ভাল কোথাও তো দূরের কথা পঞ্চগড়েও অনার্সে ভর্তি হওয়ার মত সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। সহূদয়বান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিলে আমার স্বপ্ন পূরণ হতো। যশোর: নিজেদের বাড়িতে বিদ্যুত্ নেই, তাই প্রতিবেশিদের বাড়িতে লেখাপড়া করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ইব্রাহীম হোসেন। সন্তানের এমন কৃতিত্বে সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের দিনমজুর পিতা ইসরাঈল শেখের মুখ উজ্জ্বল হলেও ভবিষ্যত্ চিন্তায় সে হাসি ফিকে হয়ে যাচ্ছে। নিত্য অনটনের সংসারে ইব্রাহীমের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ, এমবিএ পড়ে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান ইব্রাহীম। বন্ধুর এ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য তার সহায়ক বন্ধু প্রয়োজন। ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)ঃ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ফাতেমা আক্তার নিশি। বাবা দিনমজুর মোঃ নাসির ও গৃহিণী আয়েশা আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে সে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শুধুমাত্র বোর্ড ফি দিয়ে ফরম পূরণ করেছে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। নিশি আফসোস করে বলেন, এত দূর আসছি এখন ইচ্ছা ইংরেজীতে ভালো কোন কলেজে অনার্স পড়ব। কিন্তু দিনমজুর বাবা ঠিকমত সংসার চালাতে পারছে না । তার ওপর কি করে আমার মনের ইচ্ছাকে পূরণ করব। কাঠালিয়া (ঝালকাঠি): কাঠালিয়ায় দিনমজুরের মেয়ে রেবেকা আখতার জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এ ভাল ফলাফল করলেও আর্থিক অনটনের কারণে আদৌ তার পড়াশুনা চলবে কিনা তা নিয়ে পরিবার চিন্তিত। অর্থের অভাবে রেবেকা প্রাইভেট পড়তে পারেনি। অনেক সময় সহপাঠির ধার করা বই ও কলেজ লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে পড়তে হয়েছে তাকে। পিতা সোবহান বলেন, রেবেকা গ্রামের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রেবেকা ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চায়। কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ করা গরীব পিতার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি বিত্তবানদের সহযোগিতার অনুরোধ জানান। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)ঃ বিনোদপুর স্নাতক মহাবিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী মোসাঃ রোকসানা খাতুন জিপিএ ৫ পেয়ে গরীব মাতাপিতাকে আরো ভাবিয়ে তুলেছে। উপজেলার পিয়ালীমারী গ্রামের রোকসানার পিতা মোস্তফা আলি দিনমজুর ও মাতা মোসাঃ সমরত বেগম গৃহিণী। রোকসানার প্রবল ইচ্ছা বেগম রোকেয়াকে অনুসরণ করে একজন আদর্শ শিক্ষিকা হয়ে নারী জগতকে আলোর পথে নিয়ে আসবে। উপজেলার দাদনচক ঢোলপাড়া গ্রামের দিনমজুর পিতা মোহাঃ ফজলুল রহমানের ছেলে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত জসিম ইংরেজী বিষয়ের উপর একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চান। কিন্তু একমাত্র বাধা দরিদ্রতা। তাই সে দেশের বিত্তমান ও সহযোগী সংস্থার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।