বিদ্যালয় থেকে এমপি রনির কার্যালয় সরিয়ে নিতে নোটিস

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৭
গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের এমপি গোলাম মাওলা রনির দলীয় কার্যালয় সরিয়ে নিতে দ্বিতীয় দফা নোটিস দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের এমপি রনি সমর্থিত অংশের সভাপতি মো. রেজাউল করিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল আলমের কাছে প্রধান শিক্ষক মু. শাহ আলম মিয়ার স্বাক্ষরিত নোটিসটি পাঠানো হয়। রেজাউল করিম হাওলাদার নোটিস প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেছেন, শিগগিরই কক্ষটি ছেড়ে দেবেন তারা। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য জানান, এর আগে ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের ঐ কক্ষটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে নোটিস দেয়া হলেও গত আড়াই বছর ধরে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের কক্ষটি দখলে রেখে দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন তারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. শাহ আলম মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশপথের বাম দিকের ঐ কক্ষটি দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করার জন্য ভাড়া চেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের (এমপি রনি সমর্থিত অংশ) সভাপতি মো. রেজাউল করিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল আলম লিখিত আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে কক্ষটি ভাড়া দেয়া হয়। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মু. নাসির উদ্দিন জানান, এমপি রনি তার নিজের বসার জন্য একটি কার্যালয় স্থাপন করতে বিদ্যালয়ের ঐ কক্ষটি ভাড়া নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভাড়া নেয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে তার অনুসারীরা সেখানে দলীয় কার্যালয় স্থাপন করেন। আসলে সেসময় চাপে পড়ে পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যালয়ের কক্ষটি তাদেরকে ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক মু. শাহ আলম মিয়া বলেন, ভাড়া চুক্তি অনুসারে এক লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসিক চার হাজার টাকায় তারা কক্ষটি ভাড়া নিলেও পরবর্তী সময়ে তারা বিদ্যালয়কে আর কোনো টাকা দেননি। দ্বিতীয় দফা নোটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নোটিসে তাদেরকে অবিলম্বে কক্ষটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।