লাখপতি এখন মুম্বাইয়ের রাস্তায়

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৫
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। এক সময় সুনিতা নায়েকের লাখ লাখ টাকা, গাড়ি, বাড়ি— সবই ছিল। ছিলেন একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক; কিন্তু এখন তিনি মুম্বাইয়ের রাস্তায়। গুরুদুয়ারার খাবার খেয়ে বেঁচে থাকেন স্নাতক ডিগ্রিধারী সুনিতা। খবর এনডিটিভির। বাস্তবতা যে কল্পনাকে হার মানায় তারই অন্যতম উদাহরণ ভারতের ৬৫ বছর বয়সী সুনিতা নায়েক। মুম্বাইয়ের জেপি রোডের ভারসোভায় শিখ ধর্মের উপাসানালয় গুরুদুয়ারার সামনে একটি রাস্তায় ছোট্ট একটি ঘরে বাস তার। খুব অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারানো সুনিতা ‘গৃহলক্ষ্মী’ নামের একটি মারাঠি ম্যাগাজিনের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন দীর্ঘদিন। পাঁচটি ভাষায় দক্ষ সুনিতা ভারতের ওয়ার্লির সেঞ্চুরি বাজারের কাছে দুইটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। উত্তরাধিকারসূত্রে পুনেতে বাঙ্গলো পান তিনি। দুইটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একজন সহকারীও ছিল তার। কখনো গণপরিহনে চলাচল করেননি তিনি। কয়েক বছর আগে সেই ম্যাগাজিনটি বন্ধ হয়ে যায়। পতনের শুরু সেখান থেকেই। ১৯৮৪ সালে পুনের ভান্ধর রাস্তার বাঙ্গলোটি ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন সুনিতা। ২০০৭ সালের মধ্যে ওয়ার্লির দুইটি ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গাড়ি দুইটিও বিক্রি করে দেন। একটি চুক্তির মাধ্যমে সর্বমোট আশি লাখ টাকায় থানেতে একটি লিজ নেয়া বাঙ্গলোতে উঠেন তিনি; কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি টের পেতে লাগলেন তার ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা রহস্যজনকভাবে কমে যাচ্ছে। তারপর বাধ্য হয়েই আরো সস্তায় ফ্ল্যাটের খোঁজে ভারসোভা শহরে চলে আসেন; কিন্তু ততদিনে শুধু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থের পরিমাণ কমেনি সেই সঙ্গে শহরের ফ্ল্যাটের দামও বেড়ে গেছে অনেক। তাই বাধ্য হয়েই ফুটপাতকে বেছে নিলেন সুনিতা। সুনিতা জানান, আমি জানি না আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-এর অর্থ কিভাবে সরে গেল। কামাল রায়কার নামে তার আগের কর্মী এসব করে থাকতে পারেন বলে তার ধারণা। তার মোবাইলটি ড্রেনে পড়ে নষ্ট হওয়ায় কামালের নাম্বারসহ অনেকের নাম্বার হারিয়ে যায়। ফলে কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন সুনিতা। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে থাকার স্থান দিতে চাইলেও পোষ্য কুকুরটির জায়গা হয়নি; কিন্তু সুনিতা তার সঙ্গের প্রিয় কুকুরটিকে ছাড়তে রাজি নন।