রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের আন্তঃনগর ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দিনাজপুর-ঢাকা, রাজশাহী-ঢাকা ও খুলনা-ঢাকা রুটে মোট ২৬টি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘন্টা থেকে ৯ ঘন্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলছে। এতে লোকাল ট্রেনগুলোতে চলাচলেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।
এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলো চলাচল করায় যে কোন সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এ আশংকায় রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।এ অবস্থায় সব চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখি সেতুর সাথে সংযুক্ত রেল লাইনটিকে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগ থেকে ঢাকাগামী ১০টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। ঈদ উপলক্ষে আরো দুটি ঈদ স্পেশাল আন্তঃনগর ট্রেন যুক্ত হয়। রাজশাহী বিভাগে চলছে ৬টি এবং খুলনা বিভাগে চলছে ৪টি এবং ঈদ স্পেশাল দুটিসহ মোট ২৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ থেকে ২টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
গতকাল রবিবার পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর ট্রেন ৩ ঘন্টা থেকে ৯ ঘন্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে গেছে।
দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত বৃহস্পতিবার রাত ৯.২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটি ছেড়ে গেছে গত শুক্রবার ভোর ৬টার সময়। বিভিন্ন উপজেলাসহ, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় থেকে আসা যাত্রীদেরকে রাতভর স্টেশনের প্লাট ফরমে অপেক্ষা করতে হয়।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল লালমনিরহাট ডিভিশনাল ম্যানেজার আব্দুল হাই জানান, শুধু দিনাজপুর স্টেশন নয়, দিনাজপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশনের সবগুলোর চিত্র একই । তিনি জানান, দিনাজপুর থেকে ঢাকা মুখে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত শনিবার ৯ ঘন্টা পর ছেড়ে গেছে। সকাল ৮:২০ এর দ্রুতযান ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা অর্থাত্ ১১ ঘন্টা বিলম্বে ছাড়ে। একই অবস্থা জানা গেছে, সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া নীল সাগর ট্রেনের। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
তিনি আরও জানান, ঈদের পরে হরতাল, মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে মানুষ কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেনি। গতকাল প্রায় সকলের ছুটি শেষ। তাই যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। ফলে স্টেশনগুলোতে যাত্রী উঠা নামায় অনেক বেশি সময় লাগছে। এছাড়াও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলোকে যাত্রা করতে হচ্ছে। ফলে ট্রেনগুলোকে ধির গতিতে চালাতে হচ্ছে। অন্যথায় যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, যাত্রী বেশির কারণে বঙ্গবন্ধু বহুমুখি যমুনা সেতুতে আমাদেরকে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ফলে ট্রেনের সিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারেন্টেন্ড মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ এ সময় যাত্রী অন্যান্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি থাকে। ট্রেনের জানালা দরজা ও ছাদের উপরেও যাত্রী থাকে। তাই ট্রেনগুলো অন্য সময়ের চেয়ে ধীরে চালাতে হয়। একারণে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
