প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধন করেছেন। আমি সংবিধানে বিশ্বাস করি। আগামী নির্বাচন নিয়ে যা কিছু হওয়ার তা সংবিধান মোতাবেকই হবে। এর থেকে একচুলও নড়বো না। গতকাল রবিবার বিকালে গণভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পাটের জীবন রহস্য, পাটের ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন চক্র আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা দেশবাসীকে জানাতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যে তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতিবাচক রাজনীতিরও সমালোচনা করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সংবিধান বহির্ভূত নির্বাচনকালীন সরকারের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশে অসাংবিধানিক বা অগণতান্ত্রিক কোন কিছু আসবে না। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। এই নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা বিশ্বাসী। আশা করি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসমূহ অরাজকতা পরিহার করে নির্বাচনমুখী হবে। দেশ ও নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থেই জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আগামী নির্বাচন কী সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই হবে, নাকি সংবিধান সংশোধন করে অন্য কোন ফর্মুলায় হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী দল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে দেশে একটি সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করতে চাইছে, কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আর সাংবিধানিক ধারায় নির্বাচন তো একবার আমাদের শুরু করে যেতে হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যাদের জন্মই সামরিক স্বৈরাচারের পকেট থেকে, তারা তো কখনো গণতান্ত্রিক পরিবেশে অভ্যস্ত নয়। তাদের সঙ্গে যদি কেউ চলতে চান চলতে পারেন। আমরা দেশকে আলোর পথে নিয়ে যাচ্ছি, কেউ যদি আবারও সেই অন্ধকারের দিকে যেতে চান যেতে পারেন। তিনি বলেন, যদি কোনো পরিবর্তন হয় তবে তা সংসদেই হবে। আমরা সংসদে বসেই সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধান সংশোধন করেছি। এখন এটা নিয়ে কোন তর্ক-বিতর্ক চলতে পারে না।
সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে আপনি থাকছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে গঠিত হয় এবং কাজ করে সেভাবেই হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সুশীল সমাজের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু ব্যক্তি আছে যাদের রাজনৈতিক দল বা সংগঠন করার ক্ষমতা নেই, জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার সামর্থ্য নেই- অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েস রয়েছে। অগণতান্ত্রিক কিছু হলে কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণের প্রত্যাশা করে। এসব ব্যক্তিদের খায়েস পূরণ করতে গিয়ে দেশের মানুষ বার বার কেন দুর্ভোগ পোহাবে? এদের জন্য দেশের জনগণ কেন খেসারত দেবে?
২০০১ সালে একমাত্র আওয়ামী লীগের আমল ছাড়া স্বাধীনতার ৩৮ বছরে সুষ্ঠুভাবে কখনো ক্ষমতার পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আমল, ২০০১-০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট আমল এবং পরবর্তী জরুরি অবস্থায় দেশ পরিচালনাকারী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল—এ তিন সরকারের সময় কখন কেমন ছিলেন তার একটু তুলনামূলক বিচার করুন। দেখছেন একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেবলমাত্র দেশের মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে সরকার মানে জনগণের সেবক। আর অন্যরা শুধু নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করেছে, দেশবাসীকে নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে।
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্বাবধায়ক বলছেন কেন? আইন ও আদালত কিছুই কি তারা মানতে চান না। সর্বোচ্চ আদালতই তত্ত্বাবধায়ককে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক বলেছে। আদালতের রায় না মেনে তারা ওই অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারের কথাই বলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধন করে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছি। জনগণের ভোটের সাংবিধানিক অধিকার তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণের মধ্যে ফের অশান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কার স্বার্থে? তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনও হবে সংবিধান অনুযায়ী। এদেশে যাতে আর অসাংবিধানিক কেউ আসতে না পারে সেজন্য সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে আলোচনার প্রস্তাব দিলাম, আর উনি আমাকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বললেন, আমি নাকি পালানোরও পথ খুঁজে পাব না! আমরা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মিনার নির্মাণসহ সুসজ্জিত করলাম, অথচ সেই মসজিদে আগুন দেয়া হলো, শত শত কোরআন শরিফ ও ধর্মীয় পুস্তক পুড়িয়ে দেয়া হলো। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাবিশ্বের ইতিহাসে একসঙ্গে এতো কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। ধর্মের নামে রাজনীতি করে ইসলাম ধর্মের ওপর এতবড় আঘাত হানার সাহস অতীতে কেউ দেখায়নি, যা দেখিয়েছে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত। তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান, আলেম-ওলামা-মাশায়েখদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। তাই বর্তমান সরকারের আমলে উপ-নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় নির্বাচনসহ ৫ হাজার ৭২৩টি নির্বাচন হয়েছে। ৬৩ হাজার ৯৪১ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এসব নির্বাচনে আমাদের দলের অনেক প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠেনি। আমার সরকার ও প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন অবস্থায় নির্বাচন পরিচালনা করেছে, সরকার সহযোগিতা করেছে। সরকার কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছি, আত্মসামাজিকভাবে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের মতো হাওয়া ভবনের পাওনা দিতে হচ্ছে না বলে দেশের ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা করছে। আমাদের সময় ছোটখাট কিছু ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। তিনি বলেন, হলমার্ক তো হাওয়া ভবনেরই সৃষ্টি। আমরাই হলমার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু এটা নিয়ে এমন কথা বলা হচ্ছে যেন চোর ধরতে গিয়ে আমরাই চোর হয়ে গেছি!
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেত্রীর (খালেদা জিয়া) দুই পুত্রের মালিকানাধীন খাম্বা লিমিটেড ও ড্যান্ডি ডাইং সোনালীসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। ক্ষমতায় থাকতে বিপুল পরিমাণ সুদের টাকাও মওকুফ করিয়ে নিয়েছে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিএনপির নেত্রীর দুই পুত্রের বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনা মার্কিন ফেডারেল কোর্ট এবং সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এফবিআই বাংলাদেশে এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। দেশের ইতিহাসে আমরাই প্রথম বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি তখন সারাদেশে বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাসের জন্য হাহাকার। ‘৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা যা বিদ্যুত্ উত্পাদন করে গিয়েছিলাম, সাত বছর পর ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিদ্যুত্ উত্পাদন তো বাড়েইনি বরং কমেছে। এবার ক্ষমতায় এসেই আমরা দেশের মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করেছি। এখন ৮ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। এবার পবিত্র রমজান মাসে দেশের মানুষকে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সইতে হয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে ঘন্টাব্যাপী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সময়ে বিদ্যুত্, খাদ্য, দ্রব্যমূল্য, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা খাতে উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সময় দেশে ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতি ছিল।
পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র করে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে ইনশাল্লাহ। আর সেতুর অন্যান্য নির্মাণের কাজও অব্যাহত রয়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শান্তির ধর্ম ইসলাম এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলমানদের ধর্মীয় মূল্যেবোধ ও চেতনা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। আমরা সকল ধর্মের মানুষের সহবস্থান এবং নিজ নিজ ধর্ম-কর্মের স্বাধীনতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় এবং মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি। আমরা এবার ১৫টি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছি। এসব চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়ে আমরাই যেনো শত্রু হয়ে গেলাম। বেসরকারি টিভি চ্যানেল যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে টকশো। আর এসব টকশোতে টক টক কথা বলে সরকারকে ঘায়েল করাই যেনো প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, অতীতে কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। আমরাই প্রথম সাংবাদিক হত্যার বিচার করেছি। অন্য হত্যাকাণ্ডগুলোরও তদন্ত চলছে। আমরা তথ্য অধিকার নিশ্চিত করেছি। সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ফান্ড আমরাই গঠন করে দিয়েছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাসান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পাটের জীবনরহস্য উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মাকসুদুল আলম প্রমুখ।
