নবম 0 এশিয়া 0 কাপ 0 হকি

বাংলাদেশের লক্ষ্য ষষ্ঠ স্থান

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৬
এশিয়া কাপ হকি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আসর। অনেকে বলেন—বাংলাদেশের হকি বিশ্বকাপ। একটা সময় নিজ যোগ্যতায় এশিয়া কাপের দরজাটা খোলা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় উন্নতির পথে না হেঁটে নিচের দিকে নেমে যাওয়ায় এশিয়া কাপ চলে গেছে দূরের পথে। এখন বাছাই পর্ব খেলে আসতে হয় বাংলাদেশকে। গত এশিয়া কাপ হকিতে আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম হয়েছিল। এবার সেই পারফরম্যান্সটা বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই আগামীকাল মালয়েশিয়ায় রওনা দিচ্ছে বাংলাদেশ দল। নবম এশিয়া কাপ হকির চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ খেলার টিকিট পেয়েছে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বাছাই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। তবে দুর্ভাগ্য অষ্টম এশিয়া কাপ হকির চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশকে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। প্রথম রাউন্ডেই এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া দুই দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। এশিয়া কাপ হকির গত আট আসরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিন বার, ভারত দুই বার। এই দুই দেশই এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশের গ্রুপে প্রতিপক্ষ। যারা হকির খবর রাখেন কিংবা হকি অনুরাগী, তাদের আর কিছু বলে বুঝাবার প্রয়োজন হবে না যে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত আর বাংলাদেশের পার্থক্যটা কতদূর। ওমান আছে বাংলাদেশের গ্রুপে। এই এক ওমান ছাড়া আর কোনো দেশকে হারানোর স্বপ্নই দেখতে পারছে না জিমি, চয়ন, বিপ্লব, পুস্কর খিসা, তাপষ বর্মন, নিলয়, জাহিদরা। দুই গ্রুপে আট দেশ নিয়ে মালয়েশিয়ার ইপো শহরে আগামী শনিবার শুরু হতে যাওয়া নবম এশিয়া কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই, ষষ্ঠ স্থান পাওয়া। বাস্তবতা মেনে নিয়েই এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ হকি দল। ষষ্ঠ স্থানটা পেলে আর যাই হোক অন্তত চার বছর পর অনুষ্ঠিতব্য দশম এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশকে বাছাই খেলতে হবে না। সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। সেই লক্ষ্যটাই পূরণ করতে চান বলে গতকাল জানিয়েছেন বাংলাদেশ হকি দলের হেড কোচ পাকিস্তানী নাভিদ আলম। দলের কোচ সাবেক তারকা খেলোয়াড় মাহবুব হারুনও বলছেন, ‘আমরা তো চাই আগামী চার বছর পর যে এশিয়া কাপটি হবে সেখানে যেন বাছাই খেলতে না হয়।’ চার বছর পরের কথা নয়, খেলোয়াড়দের মাথায় এখন এবারের প্রথম ম্যাচের চ্যালেঞ্জ। অধিনায়ক চয়ন অবশ্য শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা শত ভাগ দিতে প্রস্তুত।’ ১৯৯৩ সালে জাপানে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি নিয়ে দলের সঙ্গে কোচ হিসেবে থাকবেন মাহবুব হারুন। এখন সেই বাংলাদেশ দল না থাকলেও চমক দেখানো সম্ভব বলে মনে করেন কোচরা। পাকিস্তানী নাভিদ আলম বলছেন হারানো, ‘ড্র করা বা সারপ্রাইজ দিতেও পারি আমরা। আমি ৪৫ দিনের কোচিংয়ে ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি। কিভাবে প্রতিপক্ষকে ঠেকাবো সেটা নিয়ে কাজ করেছি।’ এসব আশাবাদের বিপরীত কথা হল, বাংলাদেশের অনুশীলনে ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গেছে। একেবারেই অনুশীলন ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। সেটা কিভাবে পুষিয়ে নেবে দল? জবাব দিলেন নাভিদ আলম, ‘আমরা এটা মানি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়নি। কিন্তু যেভাবে অনুশীলন করানো হয়েছে তা ফেলে দেয়ার মতো নয়। একটা দলের জন্য প্যাশান, প্ল্যান এবং ট্যাকটিস থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। আমার দলের ছেলেদের সেটা আছে। স্থানীয়দের নিয়ে গড়া দলের বিরুদ্ধে খেলছি। তবে বিদেশি দলের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারলে সেটা হতো বাড়তি পাওনা। আর আমরা তো মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’ আগামীকাল মালয়েশিয়া যাবে বাংলাদেশ হকি দল। ২৫ আগস্ট প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়া, ২৬ আগস্ট দ্বিতীয় ম্যাচ ওমান এবং ২৮ আগস্ট শেষ ম্যাচ ভারতের বিরুদ্ধে।