মাইনাস ওয়ান ফর্মূলায় সংসার হারিয়েছেন দুই গৃহবধূ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪২
মসজিদের ইমামের মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা কার্যকরি করায় সংসার হারিয়ে পথে বসেছে মেহেরপুরের ২ গৃহবধূ। জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে সদর উপজেলার আমদহ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে মাইফুনকে বিয়ে করে একই গ্রামে ঘরজামাই থেকে সংসার শুরু করেন আবু সিদ্দিক। সংসার জীবনে মাইফুনের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। এর পরও প্রায় ৫/৬ বছর আগে আবু সিদ্দিক তার স্ত্রীর বড় বোন বেগমের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং বেগমকে বিয়ে করে একই বাড়িতে ২ বোনকে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। এদিকে মুজিবনগর উপজেলার বাবুপুর গ্রামের আইতুল্লাহও সন্তানসহ স্ত্রী লাইলী খাতুনকে নিয়ে ঘরজামাই হিসাবে আমদহ গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। সমপ্রতি তিনি ও তার ছোট শালিকা ফিরোজার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দুই বোনকে একত্রে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ছোট স্ত্রীর ঘরে এক পুত্র সন্তান জন্মেছে। এরই মধ্যে আমদহ গ্রাম জামে মসজিদের ইমাম রওশন জামিল গত শুক্রবার জুমার নামাজে খুতবার এক পর্যায়ে বলেন, আপন ২ বোনের সাথে বিয়ে করে সংসার করা হারাম, জঘন্য অপরাধ। এমনকি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী হারাম হয়ে যায়। এসময় তিনি তার বক্তব্যে মুসল্লিদের উত্সাহিত করে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা কার্যকর করতে বাধ্য করেন। অবশেষে গত শনিবার রাতেই গ্রাম্য মাতব্বররা এ ফতোয়া কার্যকর করে ঘরজামাই আবু সিদ্দিক ও আইতুল্লাহকে ২য় স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন। এ সময় সেখানে গ্রাম্য মাতব্বর গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল হান্নান, জিনারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তালাকনামা হাতে পেয়ে পথে বসেছে বেগম ও ফিরোজা নামের ২ গৃহবধূ। এ ঘটনা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।